মাঝে একদিন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নির্বাচন। সরকারের ক্ষমতায় শেষ লগ্নে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে অনেকে সমালোচনা করছেন। কারণ এই চুক্তির ভিতরে কি রয়েছে, সেটা পরিষ্কারভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরেনি সরকার। এক্ষেত্রে সরকারের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের তরফের নিষেধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি দেশী বিরোধী কোনও চুক্তি হচ্ছে?
বাণিজ্যিক উপদেষ্টা-সহ অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে চুক্তি থেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ থেকে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আমেরিকায় অবস্থান করছে। বাণিজ্য উপদেষ্টার যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। কারণ নির্বাচন নিয়ে একটি প্রস্তুতি রয়েছে। এমনকি এই আলোচনাও রয়েছে, যে কয়েকজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছেন, সেই তালিকায় বাণিজ্য উপদেষ্টার নামও রয়েছে। তবে এখন যে খবর আসছে, সেটা বাংলাদেশের অনেক মহলকে উদ্বিগ্ন করছে। বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমলো ১ শতাংশ। অর্থাৎ যে বাণিজ্যিক চুক্তি হল আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুবিধা হিসাবে পেল মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক কম। অর্থাৎ ২০ শতাংশ শুল্ক ছিল বাংলাদেশের উপর। সেটা কোন দাঁড়ালো ১৯ শতাংশে। তবে বিনিময়ে কি কি চুক্তি হয়েছে, সেটা নিয়ে ধাঁধায় রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। তবে যেটুকু জানা যাচ্ছে, তারমধ্যে খবর, যুক্তরাষ্ট্রের তুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দেশটির বাজারে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের তুলো যদি বাংলাদেশ আমদানি করে, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উপর পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১৯ শতাংশে নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রশ্ন ওঠে, আমেরিকা এমনি এমনি কোনও স্বার্থ ছাড়া অন্য দেশকে সাহায্য করে না। সেক্ষেত্রে কি বড় কিছু স্বার্থ পূরণ করল বাংলাদেশ? বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের যোগ দিতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের ওয়াশিংটন যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যান নি। তবে উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর আগে গত বছরে ১৩ই জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করেছিল বাংলাদেশ। সেটির আওতায় নতুন বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই শর্তগুলো এখনও সামনে আনেনি সরকার। তবে চুক্তির মূল বিষয় সম্পর্কে সামনে আসেনি। তবে সূত্রগুলো নিশ্চিত করছে, এই চুক্তির জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক কিছুতে ছাড় দিতে হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ পাল্টা ১ শতাংশ শুল্ক কমাতে পেরেছে। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের থেকে বোয়িং কেনার কথা ছিল। হয়তো এই চুক্তির মধ্যে সেটি থাকতে পারে। যখন এই বিষয়টি সামনে আসে, তখন জানা গিয়েছিল, আমেরিকার থেকে ২৫ টি বোয়িং কেনার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। যেগুলোর কোনও প্রয়োজনীয়তা ছিল না। সেটা নিয়ে প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশে। তবে এই বোয়িং কেনা ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে যে চুক্তি হয়েছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল সরকার। সেই জায়গা থেকে সরকার সরে আসলেও, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে তারা সরে আসেনি। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দু দিন আগে এমন একটি চুক্তির খবর, সকলকে উদ্বিগ্ন করছে। বিশেষ করে, যখনই চুক্তির কথা প্রকাশ করছে না সরকার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ চার থেকে পাঁচ দিন। এরপর নতুন নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের মসনদে বসবে। আর তাদেরকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খামখেয়ালী কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। ফলে মনে করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি এটা নিয়ে সোচ্চার হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে একটা বড় গন্ডগোলের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বাংলাদেশে। আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।












Discussion about this post