জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও সরকারের তরফ থেকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের তর্কে বলা হয় বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘ কোন ভূমিকা পালন করতে পারে না। শেখ হাসিনার আমলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাইলেও এখন তা চাইছেনা জাতিসংঘ। গতবছর জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জন্য যে সকল কারিগরদের নাম তালিকার প্রথমে আসবে তার মধ্যে অন্যতম হিসাবে মার্কিন ডিপাস্টেটের পরেই হয়তো আসবে জাতিসংঘ এর নাম। শেখ হাসিনাকে দিয়েই মিয়ানমারের দেওয়ার খেলা শুরু করার চেষ্টা করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার ফলে মার্কিন যুক্তরাটের তরফ থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের নির্দেশ মতো কাজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপরে ইউনুসের শাসনামলেই জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে আসতে সেই সময় থেকেই শুরু হয় মিয়ানমারের মানবিক সহায়তা করিডোর এর মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা। এমনকি জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের একটি রিপোর্টও তড়িঘড়ি ইউনুস কে পাঠিয়ে দেয় জাতিসংঘ। এমনকি চলে আয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও সেটা সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে জাতিসঙ্গে পেশ করা রিপোর্টে সেনাপ্রধানের বক্তব্য থাকলে এই রিপোর্টের বিষয়বস্তু অন্যরকম হতো তা কারোরই অজানা নয়। আর এই রিপোর্টটি এখন ইউনুস সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য। কিন্তু রিপোর্টের পাশাপাশি জাতিসংঘ কেউ জানিয়েছিল রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের যদি কোন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় তবে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হবে দেশে। আর এখন জাতিসংঘের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস তিনি বলছেন বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন দল অংশ না নিলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে শুধুমাত্র জনগণের অংশগ্রহণে।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের একটি সংজ্ঞা তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারির আগে যখন নির্বাচন বয়কট করলো বিএনপি এবং একের পর এক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন বয়কটের দিকে ধাবিত হলো, সেই সময় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে জনগণের অংশগ্রহন। জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকাও পালন করছে দেশের জনগণ ফলে এটিই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করল বা না করল সেটা মূল বিষয় নয়।”
এই কথাগুলি উল্লেখ করার একটাই কারণ এখন জাতিসংঘ নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার এই কথাগুলিকেই অনুসরণ করে চলছে। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস এখন শেখ হাসিনার সেই বক্তব্যটি বর্তমানে পুনঃব্যাক্ত করছেন।
এদিন গোয়েন লুইসকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন, আগামী নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে কে প্রত্যাশা রয়েছে তার এই নির্বাচনকে ঘিরে। আর এর উত্তরে গোয়েন লুইস জানান, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অর্থ সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নয়। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সব শ্রেণীর মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সংঘাত সংকটের সময় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমে গেলে এসব মিশনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post