বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহনে নির্বাচন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হবে ভাবি জাতিসংঘের। পশ্চিমা দেশগুলির বাহক জাতিসংঘ। বৈশ্বিক এই সংস্থাটির বাংলাদেশস্ত আবাসিক প্রতিনিধি, গোয়েন লুইস গত বুধবার সাংবাদিকদের একটি অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করেছেন তা ছিল বেশ চমকপ্রদ।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের একটি সংজ্ঞা তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারির আগে যখন নির্বাচন বয়কট করলো বিএনপি এবং একের পর এক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন বয়কটের দিকে ধাবিত হলো, সেই সময় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে জনগণের অংশগ্রহন। জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকাও পালন করছে দেশের জনগণ ফলে এটিই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করল বা না করল সেটা মূল বিষয় নয়।”
এই কথাগুলি উল্লেখ করার একটাই কারণ এখন জাতিসংঘ নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার এই কথাগুলিকেই অনুসরণ করে চলছে। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস এখন শেখ হাসিনার সেই বক্তব্যটি বর্তমানে পুনঃব্যাক্ত করছেন।
এদিন গোয়েন লুইসকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন, আগামী নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে কি প্রত্যাশা রয়েছে তার এই নির্বাচনকে ঘিরে। আর এর উত্তরে গোয়েন লুইস জানান, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অর্থ সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নয়। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সব শ্রেণীর মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। জাতিসংঘের কাছে অন্তর্ভুক্তি মানে হচ্ছে, প্রত্যেক বাংলাদেশি যেন মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়।
কিন্তু এর আগে শেষ বার বাংলাদেশের দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ছাড়া, তখন জাতিসংঘ ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র তারা বিবৃতি দিয়েছিল, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর দমন পীড়ন বন্ধ ও স্বাধীন মত প্রকাশে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। এটি সেইবার নির্বাচনের আগেই প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসে এই জাতিসংঘ সেই সময়ে শেখ হাসিনার অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞা টিকে সামনে রেখে স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেন,নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে কখন কবে দেশে পরবর্তী নির্বাচন হবে।












Discussion about this post