বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমন সিদ্ধান্তের কথাই জানা গিয়েছে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের তরফে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হেফাজতের ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বারবার জাতিসংঘের কর্ম কর্তাদের বলছিলেন, শাপলার গণহত্যার বিষয়টি জাতিসংঘের তদন্ত করে দেখা উচিত। হেফাজতি কর্মীদের উপর সেই সময় পুলিশি নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা যদি জাতি সংঘ নথিভুক্ত না করে, তদন্ত না করে সেটা কিছুতেই যথাযথ হবে না। এমন বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, মার্চের জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। এমনকি আবাসিক সমন্বয়কের অফিসের সিনিয়র মানবধিকার কর্মকর্তা উমা খান যখন মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করলেন, তখন তিনি শাপলা গণহত্যার বিষয়ে যে অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ এবং সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সেই সময় পুলিশ কি ব্যবস্থা নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত ইসলামীর উপর কি করেছিল, এই দুটি বিষয়ে তদন্ত করে দেখতে এবং জাতি সংঘে নথিভুক্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবধিকার কমিশনের একটি কার্যালয় খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমন কথা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের তরফে জানা গিয়েছে। তারা মনে করছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়া এবং জাতিসংঘকে একটি তদন্তে যুক্ত করার অংশ হিসাবে অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করছে। ভলকর তুর্ক জাতিসংঘ মানবধিকার কমিশনার যিনি বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনে অত্যন্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন, এবং বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্র জনতার আন্দোলন প্রতিহত করবে না, এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণের পিছনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীকে জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবধিকার কমিশনের কার্যালয় থেকে, সেনাবাহিনী যদি হাসিনা সরকারের নির্দেশে আন্দোলন দমনে করে তবে তারা আর শান্তি রক্ষা বাহিনীতে অংশ নিতে পারবে না। এর ফলেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত হয়েছিল। তারপর এই ভলকার তুর্ক অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সফরে এলে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশের জাতিসংঘের একটি কার্যালয় খোলার জন্য। সেই সিদ্ধান্ত সাদরে গ্রহণ করেন মহম্মদ ইউনূস। এদিকে মার্চ মাসে যখন গোয়েন লুইস এবং উমা খান বিষয়টি নিয়ে বলেন, তখন ইউনুস জানান, শাপলা হত্যাকাণ্ডে হেফাজতে ইসলামের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাতে জাতিসংঘের খাতায় অভিযোগ তোলা হলে তারা যেন তদন্ত করে। এদিকে সেই হেফাজতে ইসলাম প্রথম রাজনৈতিক দল, যারা বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় খোলার বিরোধিতা করেন।
তবে হেফাজতের ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলাতে বিরোধিতা করছে, তার কারণ হল, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের নামের যে সমস্ত কর্মকাণ্ড করবে, এগুলি হেফাজতে ইসলামীরা পশ্চিমা কার্যকলাপ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। যেমন নারী পুরুষের সমান অধিকার বা নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবি ইত্যাদি।
এমনকি এই বিষয়টিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত হয়নি। এমনকি জাতিসংঘ এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত দেশে তাদের কার্যালয় খুলেছে, সেখানে দেখা গিয়েছে কোনও না কোনও সমস্যায় লিপ্ত রয়েছে। এমনকি হেফাজত ইসলাম বলছে, যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেই জাতিসংঘ কার্যালয় খুলতে চাইছে। ফলে এখন দেখার শেষমেষ কি হয়!












Discussion about this post