২০২৪ –র ৫ অগস্টের আগে থেকে সেনাপ্রধান সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঝা চকচকে এখন পরিস্কার শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পিছনে সেনার হাত ছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে ওয়াকার বিরোধী ঐক্য় দেখা যাচ্ছে। অর্থার যা দোষ সব সেনার দিকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌছেছে সেনার বিরুদ্ধে যখন তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করা হতে পারে। বাংলাদেশের কিন্তু সেনার বড় অবদান রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে সেনা বরাবর বড় ভূমিকা পালন করে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেনার হাতেই খুন হয়েছেন সে দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান। এই সেনাবাহিনী, তিনটি তিনটি সামরিক শাসন বাংলাদেশে কায়েম করেছে। সেনা সেই সময় সরকারের যে নির্দেশ ছিল সেটা যদি শুনত তাহলে জুলাই গণ অভ্যুথ্থানের মত ঘটনা ঘটত না। কিন্তু ৩ অগস্ট সেনার তরফ থেকে জানান হয়, তারা সরকারের নির্দেশে আর কাজ করতে পারবে না। ফলে রাজনৈতিক মহল বলছে, সেসময় যদি সেনা কথা শুনত তাহলে পদ্মাপাড়ের পরিস্থিতি ভয়ানক হত না। হয়তো শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে যেতে হত না, শেখ হাসিনা দেশেই থাকতেন। কিন্তু সেই দিন অর্থাৎ ৫ অগস্ট সেনা শেখ হাসিনা অর্থাৎ সরকারের কথা শোনেনি।
সামনেই রয়েছে বাংলাদেশে নির্বাচন। নির্বাচন আগে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে খুব ভালো সেটা কিন্তু একদম না। বিক্ষোভ, মারধরের মত ঘটনা চলছে। ১২ ফেব্রুয়ারী পর যারা ক্ষমতায় আসবে তারা যদি এখনই সেনাকে প্রতিদ্বন্দিতা বা বিপরীত পক্ষ ভেবে নেয় তাহলে ভুল কিছু হবে না একদমই। বাংলাদেশ সেনাকে যদি বেইমান বলা হয় তাহলে কিন্তু খুব কিছু ভুল বলা হবে না। কিন্তু, বাংলাদেশের সেনার চরিত্রই হল, রাস্ট্রের তরফ থেকে সেনার জন্য কিছু করা হলে তারা সেই অবদান একেবারে ভুলে যায়। সেই পরে গিয়ে আবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে। ৫ ই অগস্টের পর হয়তো অন্তবর্তী সরকার এসেছে, কিন্তু দেশ সামলাচ্ছে সেনাবাহিনী।
এবার আসি বিএনপির কথায়। তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন তারেক। তারেক ফেরায় নেতা-কর্মীরা যে চাতক পাখির মতো বসেছিলেন সেটা এখন আর বসে নেই। অক্সিজেন পেয়েছেন নেতা কর্মীরা। আবার আওয়ামী লীগও এখন বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। যারা একটা সময় একে অপরের বিপক্ষে তারাই এখন পক্ষে। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে যেন তারা একটা সুষ্টু নির্বাচন করায়। কথার কথা যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে যে সেনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হবে সেটা কিন্তু একদমই ভুল ধারণা । আশঙ্কা যদি আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে আবারও সংস্কার ফিরতে পারে। কারণ ওয়াকারকে সেনাপ্রধানের পদে কে নিয়োগ করেছিলেন তা নিশ্চয় সকলেরই জানা। শেখ হাসিনা নিয়োগ করেছিলেন। তিনি আবার হাসিনার কাছের আত্মীয়। তিনি কল্পনা করতে পারেননি, তাঁর সঙ্গে ওয়াকার বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন।
প্রথম দিকে ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক একেবারেই পাল্টে যায়। সামনের নির্বাচন যাতে ভালোভাবে হয় সেটা বাহিনীকেই নিশ্চিত করতে হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে অনেক পরিব্র্তন হয়েছে। সেনাবাহিনীতেও হয়েছে পরিবর্তন। শীর্ষ পদে এমন কয়েকজন বয়েছেন তারা ইউনূসের খুব কাছের। কেন নিয়োগ করা হল এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মনে করা হচ্ছে, ইউনূসের কথাতে ভোটের দিন তারা কাজ করতে পারে। এখন দেখার ১২ ফেব্রুয়ারী সেনা বাহিনী কোন পথে এগোয়, কারণ ভোট নিয়ে কেউ নিশ্চিন্ত নয়।












Discussion about this post