বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য হাঁকপাঁক করছেন। কিন্তু তিনিই একসময় ভারতের ওপর ৫০% ট্যারিফ বসিয়েছিলেন, কিন্তু ভারত মাথা নোয়ায়নি। তারপর অনেক জল বয়ে গিয়েছে গঙ্গা ও যমুনা দিয়ে। সবকিছু বাদ দিয়ে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। কেন এমনটা হচ্ছে, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের সঙ্গে ট্রেড ডিল বা বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য এত উদগ্রীব? আসুন এটা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বা শুল্কযুদ্ধ কীভাবে ভয়ঙ্কর মোড় নিল? ভারত সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। যাকে দুই তরফেই বলা হচ্ছে মাদার অফ অল ট্রেড ডিলস। এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইউরোপে ভারতের রফতানি দ্বিগুণ হবে এবং ভারত এবং ২৭টি ইইউ দেশের জন্য পারস্পরিক লাভ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা নিয়ে গোটা বিশ্বেই এখন চর্চা চলছে। এই চুক্তি মোতাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবিষ্যতের বাজার সম্প্রসারণ, রফতানি বৃদ্ধি এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতকে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইউরোপে ভারতের রফতানি দ্বিগুণ করবে এবং ভারত এবং ২৭টি ইইউ দেশের জন্য পারস্পরিক লাভ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই কারণেই এই চুক্তিকে মাদার অফ অল ডিলস বলা হচ্ছে। ফলে এখন প্রবল চাপে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তাঁদের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তি এখনও হয়নি। তার আগেই ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেল। আবার পাশাপাশি ইউরোপের ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলাদা আলাদা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে নরেন্দ্র মোদির ভারত।
এই আবহেই জানা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোমবার তিন দিনের মার্কিন সফরে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে উড়ে যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতেই তিনি ওয়াশিংটন উড়ে যাচ্ছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জয়শঙ্করের এই মার্কিন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই সম্পর্ককে দুই কৌশলগত অংশীদারের মধ্যে সম্পর্কের তীব্র মন্দা মোকাবেলার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই তিনদিনের সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কর্তৃক আয়োজিত ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্ট্রিয়ালে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সদস্যদের সাথেও বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এখানেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ভিত রচিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ইতিমধ্যেই জয়শঙ্করের এই সফরকে একটি ইতিবাচক আহ্বান বলে বর্ণনা করেছেন। তবে নয়া দিল্লির একটি মহলের দাবি, জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে এই বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব না দেন, তাহলে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠকের সম্ভবনা কম।
কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কিন ও চিনের মধ্যে বর্তমান যে সংঘাত রয়েছে তাতে সবচেয়ে ব্যাকফুটে ওয়াশিংটন। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থিতবস্থা বজার রাখা এবং নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য ভারতের সাহায্য নেওয়া খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের ভ্রান্ত নীতির জেরে একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে চলেছে। এবার যদি রাশিয়ার সহায়তায় চিনের সঙ্গে প্রস্তাবিত রিকস বা রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চায়না জোট তৈরি হয়ে যায়, তাহলে একেবারেই মার্কিন অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন চাইছে দ্রুত ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সেরে নিতে। আর সেটা ভারতের দাবি মেনেই। বলাই বাহুল্য মোদির কূটনৈতিক চালে, আর জয়শঙ্করের হুঁশিয়ারিতে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আগামীদিনে বিপদে পড়বে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।












Discussion about this post