খেলা ঘুরে যাচ্ছে। ফের কাছাকাছি মোদি-ট্রাম্প। নতুন করে জোড়া লাগতে শুরু করেছে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক। আর এই খবর করছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমই। তারা বলছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরণের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। সেই চুক্তিটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তি। এবং এই চুক্তি সিগন্যাল দিচ্ছে, ভারতের উপরে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটা নেমে যাচ্ছে অনেক বেশি। সেটা সম্ভবত বাংলাদেশের থেকে অনেক কমে যাবে। অনেকে বলছেন, ট্রাম্প-মোদি কাছাকাছি আসতেই ঘুম উড়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের। অন্যদিকে ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান।
ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ক জোড়া লাগতে চলেছে বলে খবর। প্রাথমিক পদক্ষেপ হল, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তি সই। ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে হওয়া পরবর্তী ১০ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা চালানোর জন্য একটি চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তিটি দেশের মাটিতে হয়নি। হয়েছে কুয়ালালামপুরে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিষয়ক সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে এক বৈঠক হয়। এরপর এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলে হেগসেথ জানান, দুটি দেশের মধ্যে এই চুক্তি যেমন সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান আর কারিগরি সহযোগিতা বাড়াবে তেমনই আঝ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, কৌশলগত দিক থেকে আমরা যেভাবে আরও বেশি করে কাছাকাছি আসছি, এটা তারই ইঙ্গিত। অংশীদারিত্বের এক নতুন দশক শুরু হল। তিনি আরও লেখেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রতিরক্ষা খাত সম্পূর্ণ স্তম্ভ হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এখানে বলছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল, তখন ভারত সরকার আমেরিকার কাছে কোনওভাবে মাথা নত করেনি। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকবার ফোন করলে, ফোন তোলেননি নরেন্দ্র মোদি। এমনটাই সূত্রে খবর। এমনকি বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর বাতিল করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। যাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হতে না হয়। নতুন করে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে ভারত। রাশিয়া ও চিনকে নিয়ে যে কূটনৈতিক চাল চেলেছে ভারত, তাতে আপাত মনে হচ্ছে ভারত সফল হল। নিজে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, বাংলাদেশ প্রায় আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করে দেওয়ার পরও তাদের কোনও সুবিধাই দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। উল্টে বেশ কিছু অসুবিধা করেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে নতুন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হলে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়তে পারে, তা ঘিরে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। কারণ বাংলাদেশে নিজেদের ঘাঁটি গাড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেটি পরিস্কার। তবে সেটি মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সেটির কি আর দরকার পড়বে? এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। পাশাপাশি পাকিস্তান যে বিপাকে পড়ল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণের কথা তারা বারবার বলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বলে বলিয়ান হয়ে শাহবাজ শরিফের দেশ যে বলেছিল, সেটা পরিস্কার। তবে এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেদিকে যেমন প্রত্যেকের নজর রয়েছে, পাশাপাশি নজর রয়েছে আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটির দিকেও নজর রয়েছে।












Discussion about this post