১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট হচ্ছে তো?
এই প্রশ্ন শুধু পদ্মাপারে ঘোরাঘুরি করছে না, ঘোরাঘুরি করছে দুনিয়াজুড়ে। তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন হবে যথাসময়ে। ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও দেশবাসীকে এই মর্মে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা তারা নিশ্চিত করবে। সব কিছু সাদা চোখে স্বাভাবিক লাগলেও বিষয়টা খুব একটা স্বাভাবিক নয়। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যাতে ভোটে অংশ নিতে পারে, তার জন্য একটা চেষ্টা চলছে। চেষ্টা চালাচ্ছে মূলত আমেরিকা। বেশ কয়েটি রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে। সেই সব রাস্তার মধ্যে একটি হল ভোট পিছিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় রাস্তা কোনও একটি দল সরকার গঠন করলে পরবর্তী ছ মাসের মধ্যে রিকনসিলিট করে যদি একটা ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এই অবস্থায় সেটা কী করে সম্ভব, তা নিয়ে নানা প্রান্তেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিগত বছরে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের আনাগোনা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে আমেরিকা তলব করেছিল। দিল্লি সফর করেছেন। গিয়েছিলেন কাতারে। সব বৈঠকের বিষয় ছিল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূতেরা চরকির মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। জামায়াত, তারেক রহমান, ড. ইউনূস সবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এই ইইউ-য়ের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগ একাধিকবার বলেছেন, ক্ষমতা থেকে তাদের সরিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টে রাজপথে যা কিছু ঘটেছে সেখানে ম্যাটিকুলাস ডিজাইন ছিল। এর মাধ্যমে জনগণকে উস্কে দেওয়া হয়েছে। বিপ্লবটিকে মিস হ্যান্ডেল করার জন্য বা গণঅভ্যুত্থানকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সব পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে আমেরিকার একটা যোগসাজশ ছিল।
প্রশ্ন একটাই, ১৫-১৬ মাস পরে আমেরিকার কেন এমন মনে হল, যে শেখ হাসিনাকে যে কোনও মূল্যে ফিরিয়ে আনা দরকার? বাংলাদেশে আমেরিকা বিশাল বিনিয়োগ করেছে। তাই, তাদের দরকার এমন একটি সরকার যারা তাদের সাহায্য করবে। অর্থাৎ বিনিয়োগ থেকে তারা লভ্যাংশ ঘরে নিয়ে যেতে পারে, তার একটা পাকাপোক্তি ব্যবস্থা করবে। তার জন্য দরকার মার্কিন মডেলের গণতন্ত্র। তা না হলে এখানে বার্মা অ্যাক্ট কার্যকর করা যাবে না। বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে তাদের যে কর্তৃত্ববাদ রয়েছে, সেটা চলে যাবে চিনের হাতে। সেটা আমেরিকার ক্ষেত্রে বড়ো ঝুঁকি। চিনের কড়া নজরে রয়েছে বাংলাদেশ। অপর দিকে আমেরিকা ও ভারত এই সম্মিলিত শক্তি, যাকে বলা হয় লিবারেল ডেমোক্র্যাসি, তার আদলে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক শক্তি বা একাধিক রাজনৈতিক শক্তি থাকলে আমেরিকা ভালো অবস্থানে থাকবে।
তবে ভারত কিন্তু তারেককে মেনে নিয়েছে। তারেক যুগে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক যাতে মসৃণ হয়, তার জন্য সাউথব্লক থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে সাউথব্লক সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আপাতত ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য আমাদের সকলেক অপেক্ষা করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে যে টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post