শুরু হয়েছে মহান ডিসেম্বর। ঐতিহাসিক বিজয়ের মাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ১৬ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। দেশজুড়ে উড়তে শুরু করে বিজয় পতাকা। ৫৪ বছর আগের কথা। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সেই মহান অর্জন বোধয় ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এক লহমায় বদলে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে। ৫৪ বছর আগে যারা অবিভক্ত পূর্বপাকিস্তানে যারা দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করত, আজ তারা বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। নখ দিয়ে পবিত্র বাংলাদেশের মাটিতে আঁচড় কাটছে। বাংলাদেশের বুকে নিঃশব্দে ঘটে চলেছে রক্তের হোলি খেলা। এই রক্ত সেই সব মানুষের, যাঁরা মৌলবাদীশক্তির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল। দেশ থেকে তাদের বিতাড়িত করেছিল। এই অবৈধ সরকারে লালন পালনে তাঁরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বুক চিতিয়ে তারা বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বলছে পাকিস্তান জিন্দাবাদ। এরা কারা? এরা সেই অপশক্তি যারা ৫৪ বছর আগে অবিভক্ত তালিবানি পাকিস্তানে সন্ত্রাসী শাসন কায়েম করেছিল। ডিসেম্বরের শুরুতেই যদি বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তানের জয়ধ্বনি দেওয়া শুরু হয়, সেটা যে ন্যক্করজনক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আরও লজ্জার যে তদারকি সরকার প্রধানের থেকে দেশবাসী আশা ছিল, তিনি এক নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। সেই নতুন বাংলাদেশের যে এই লজ্জাজনক এবং একই সঙ্গে ভয়ংকর পরিস্থিতি হবে তা কোনওদিন দেশবাসী আশা করেছিল? তাঁরা তো স্বপ্ন দেখেছিল ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ উন্নতির শিখর স্পর্শ করবে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের কাছে এ এক অসহ্য যন্ত্রণার মাস।
কোথায় শোনা গেল পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান? স্লোগান শোনা গিয়েছে সন্দীপে। শুধু স্লোগান নয়, দু হাত তুলে তারা উল্লাস করেছে। ওয়াজ মেহফিলের নাম পাকিস্তানের নামে একাধিকবার দেওয়া হয়েছে জয়ধ্বনি। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অনুষ্ঠিত একটি কোরআন তিলাওয়াত সম্মেলনের ভিডিও সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক বক্তাকে মঞ্চে বসে ‘পাকিস্তান পাকিস্তান, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। সমবেত জনতাও এতে সাড়া দেয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই সেই ভিডিও
TC
03.21 – 03.31
জানা গিয়েছে, রোববার সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী বক্তাদের মঞ্চে ওঠার সময় সঞ্চালক তাদের দেশের নাম ধরে স্লোগান দেন। পাকিস্তান থেকে আগত এক বক্তার ক্ষেত্রে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভাইরাল হওয়া প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সঞ্চালক প্রথমে ‘পাকিস্তান পাকিস্তান’ স্লোগান দেন, আর দর্শকেরা বলেন ‘জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’। এরপর তিনি ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বললে একইভাবে ‘জিন্দাবাদ’ ধ্বনি শোনা যায়। পরে তিনি ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান তোলেন।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘“পাকিস্তান জিন্দাবাদ” স্লোগান অত্যন্ত ধৃষ্টতাপূর্ণ। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং এমন ঘটনা সহ্য করব না।’ সন্দ্বীপের ইউএনও মংচিংনু মারমা বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেননি। তবে এমন ঘটনা সত্য হলে তা দুঃখজনক, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সন্দ্বীপ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ এলে তদন্ত করা হবে।












Discussion about this post