নির্বাচনের জন্য চারটি বড় শর্ত দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এদিকে তাতে একমত নয় বিএনপি। তবে কি সমঝোতা শেষ? বিএনপিকে শত্রু বলে গণ্য করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?
দায়মুক্তি সাংবিধানিক স্বীকৃতি শর্ত না মানলে ভেস্তে যাবে লন্ডন বৈঠকের সমঝোতা। আসলে এই শর্ত হল, জুলাই ঘোষণাপত্র। জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই ঘোষণাপত্র এর সঙ্গে মহম্মদ ইউনূস জুড়ে দিয়েছেন আরও তিনটি শর্ত। যেগুলি পূরণ না হলে হবে না জুলাই সনদ। আর সেটা না হলে হবে না নির্বাচন। অন্যদিকে জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্তকরণের বিরোধিতা করছে বিএনপি। এর আগেও জুলাই ঘোষণা পত্র প্রকাশ করতে চেয়েছে ছাত্রনেতারা। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে বারবার। প্রশ্ন উঠছে, কিছুদিন পরপর জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের কেন নাটক করে তারা? জানা যায়, জুলাই আন্দোলন এবং তারপরের সকল কাজের জন্য দায়মুক্তি চায় তারা। এমনকি শুধু জুলাই ঘোষণাপত্র নয়। সংস্কার চাই তারা। যার ভিত্তিতে হবে জুলাই সনদ। সে কারণে আরো তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু সেগুলি নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে বিএনপি।
আসিফ মাহমুদ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলি একমত হলে, সমস্ত কিছু ঠিক থাকলে ৫ ই আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে। এদিকে সূত্রের খবর, ভিতরে ভিতরে জটিলতা তৈরি হয়ে রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি চায়, সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতিতে জুলাই ঘোষণাপত্র এর স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি চায়, সংবিধানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এবং পরে সমস্ত কিছুর দায় মুক্তির। কি কারণেই তারা একটি নতুন সংবিধান চায়। যেখানে নতুন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জুলাই ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করতে হবে। কিন্তু তাতে রাজি নয় বিএনপি। প্রশ্ন উঠছে, এই দায়মুক্তি রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কতটা সুবিধা দেবে? আসলে বিএনপি মনে করে, জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার মত বিষয় নয়।
এই বিষয়ে দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ঘোষণা পত্রের পুরোটা না নিয়ে জুলাই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের চেতনাটুকু নিয়ে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চতুর্থ তফসিলে শুধু ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪’ আনা যেতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, কেন বিএনপি এটা চাইছে না? সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তখন কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কার্যকারিতা শেষ। সে ঘোষণাপত্র চতুর্থ তফসিলে এসে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, প্রতিটি আইন কিন্তু সংবিধানে উল্লেখিত নয়। বলা হলো, এটা তফসিলে থাকবে, এটাই লেজিটিমেসি, স্বীকৃতি। তিনি আরও বলেন, ঘোষণাপত্র লিটারেচার হিসেবে, ডকুমেন্টারি হিসেবে আর্কাইভে থাকে, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।৭২–এর সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংযুক্ত না করা এটা প্রমাণ করে, কোনো ঘোষণাপত্র সংবিধানের অংশ হয় না। ঘোষণাপত্র হলো ঘোষণাপত্র, এটার রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকে, এটা আর্কাইভে থাকে। এটাকে জাতি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উল্লেখ করে, স্মরণ করে।
এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রনেতারা জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার চায়নি বলে হয়নি। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে একটি খসড়া তৈরি করা হয়। বিএনপির কাছেও প্রস্তাব গিয়েছে। জানা যায়, এখনো বিএনপি পুরোপুরি মত দেয়নি। এরমধ্যে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার।
জানা যাচ্ছে, লন্ডনের তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে বলে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটার বাস্তবায়ন হতে পারে। ইতিমধ্যেই ১০ই জুলাই ঐক্যমত কমিশনের সহ সভাপতি মহম্মদ আলী রীয়াজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে নাকি নির্বাচনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস তিনটি শর্ত দিয়েছেন। সেগুলি হল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে কোনও দল চাইলেই যাতে সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে সেই ধরনের বিধান এবং নারী আসনের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এগুলি নিশ্চিত হলেই নাকি নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু এগুলি রাজি নয় বিএনপি। রাজি জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামাত।












Discussion about this post