“ কে বলে অন্যায় ? রাজস্বদানে যেইখানে গাফলতি, সেইখানে ক্ষতি। চুপচাপ দিয়ে দিলেই গোল মিটে যায়। না হলে জুলুমই হল একমাত্র উপায়। ”
সংলাপ হীরক রাজার। এই সংলাপের সঙ্গে প্রতিবেদনের সূক্ষ্ম একটা সম্পর্ক রয়েছে। তদারকি সরকারের যে বিদায় আসন্ন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিদায় বেলায় তিনি যে সব কর্মকাণ্ড করছে, সেটা একধরনের জুলুম বলা যেতেই পারে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল নিয়েছে তদারকি সরকার। সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামের মিসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অঞ্চলে হওয়ার কথা ছিল ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেটা করেছিলেন হাসিনা। কিন্তু ঢাকা-দিল্লির তিক্ত দ্বীপাক্ষিক সম্পর্কের জেরে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশ্যাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল সিপোর্ট ড্রেজিং প্রাইভেট লিমিটেড কাজ করতে আগ্রহ না দেখানোয় ভারত ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। এখন বাতিল হওয়া জমিতে তদারকি সরকার প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্প ঘিরে প্রথম প্রশ্ন – ইউনূসের বিদায় যখন নিশ্চিত তখন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন এই প্রকল্প থেকে তদারকি সরকার কী লাভবান হবে?
এই প্রকল্প নিয়ে সোমবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সভায় আলোচনা হয়। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাংবাদিক সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় ৮৫০ একর জমিকে “ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন ” হিসেবে বেজার মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে জি-টু-জি কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গাটি এখন প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’
বেজার তথ্য অনুযায়ী, জমি ভরাট, উন্নত প্লট বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এখানে গড়ে উঠব আধুনিক ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি হাব’। আনোয়ারা উপজেলার কোরিয়ান ইপিজেড কিংবা বেপজা ইকোনমিক জোনের মতো এই অঞ্চলের ব্যবস্থাপনাও কোনও আন্তর্জাতিক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, ছোট ছোট প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে এখন বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ৫০০ একর জমিতে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে আন্তর্জাতিক মাস্টার ডেভেলপার।
তিনি আরও বলেন, খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা নিয়ে সমীক্ষা (ফিজিক্যাল স্টাডি) পরিচালনা করবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। সমীক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে বলে জানান তিনি। এ উদ্যোগ সফল করতে দেশ-বিদেশে রোড শোসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে বেজা।এনএসইজেডে ইতোমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ পেয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফারুক। তবে সম্ভাব্য চার থেকে পাঁচটি প্লট বরাদ্দ বাতিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে এনএসইজেডের দুটি জোনে প্রায় ১,৫০০ একর জমি কারখানা নির্মাণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়েছে বেজা।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য একাধিক রাষ্ট্রীয় কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিজের মডেল অনুকরণ করা নয়। বরং দেশি বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হবে। পরবর্তীধাপে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে।
প্রশ্ন অন্যত্র। এ প্রকল্পের বিষয়ে সেনাবাহিনী কিছু জানে? সেনাবাহিনীর থেকে কি অনুমতি চাওয়া হয়েছিল? বাহিনীর তরফ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছি কি?












Discussion about this post