এই মুহূর্তে ব্রিটেন সফরে আছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি কিংস চার্লস হারমনি অ্যওয়ার্ডস গ্রহণ করবেন ইংল্যান্ডের রাজার হাত থেকে। কিন্তু তিনি ঠিক কি পুরস্কার বা সম্মাননা পেতে চলেছেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ, যে সংস্থা এই সম্মাননা প্রদান করে সেই কিংস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে নমীনীদের তালিকায় ডক্টর ইউনূসের নামই নেই। ফলে বাংলাদেশ জুড়ে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এটাও ভাঁওতা?
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যের ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে সঙ্গতিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যময় ও টেকসই পৃথিবী নির্মাণের প্রচেষ্টায় তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস এ বছরের সম্মানজনক ‘কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনীত করেছেন’।
বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকার যতই ঢাক ঢোল পিটিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য প্রচার করুক না কেন, আদতে দেখা গেল তাঁর নামই নেই এরকম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায়। ইংল্যান্ডের রাজ পরিবারের তরফে দি কিংস ফাউন্ডেশন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান প্রদান করে থাকে। ২০২৫ সালে যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে কোনও বিভাগেই মুহাম্মদ ইউনূসের নাম নেই। এই বিষয়টি সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশ জুড়ে। সেই সঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলিতেও লেখালেখি হচ্ছে। ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকার। প্রশ্ন আরও আছে।
ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক গত ৪ জুন দেখা করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। এক ফেসবুক পোস্টে সারা কুক জানান, তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তার আসন্ন ব্রিটেন সফল নিয়ে কথা বলেছেন। বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি লেখেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা বিষয়ক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। কিন্তু তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্রিটেনের রাজার কাছ থেকে বিশেষ সাম্মানিক পুরস্কার পাওয়ার জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানাননি। যা অনেকের দৃষ্টি এড়ায়নি। কারণ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব দাবি করেছিলেন বৃটেনের হাইকমিশনার প্রধান উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এটা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে যদি তিনি এই পুরস্কার পেয়েই থাকেন তাহলে তার নাম নেই কেন? এর পিছনে কি অন্য কোনও খেলা আছে? যদিও কোনও কোনও অংশের দাবি, মুহাম্মদ ইউনুসের মর্যাদা ব্রিটিশ রাজার কাছে অনেক বেশি। তিনি বিশ্ব মঞ্চে অনেক উপরে উঠে গেছেন। তাকে কোথাও অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় না অর্থাৎ প্রথমে নমিনি এবং পরে চূড়ান্ত বিজয়ী হতে হয় না মুহাম্মদ ইউনূসকে। তাঁকে যে পুরস্কার দেওয়া হবে সেটা লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডের মতো। আগে থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয় না। তাহলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন আগে তা প্রকাশ করল? নিজের ঢাক নিজেপেই কি ব্যস্ত মুহাম্মদ ইউনূস? আরেকটি অংশের দাবি কিন্তু আরও মারাত্মক। সমালোচকদের সেই অংশ বলছে, বিগত ১০ মাসে মুহাম্মদ ইউনূসের জনপ্রিয়তা কমেছে বৈ বাড়েনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট বা দি গার্ডিয়ানের মতো নামী দামী পত্রিকায় ইউনূসের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর কাজ সমালোচিত হচ্ছে। তাই এই ধরণের সম্মান পাইয়ে দিয়ে ফের তাঁর ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মার্কিন ডিপ স্টেট, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই -৬ এই যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই পুরস্কার পাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু শেখ হাসিনার চালে ব্রিটেন সফরে যথেষ্টই বিব্রত হতে হবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে। প্রথমে ব্রিটেনের সাংসদ তথা শাসকদল লেবার পার্টির অন্যতম নেত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের খোলা চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত ইউনূসকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ। যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছে।












Discussion about this post