ইউনুসের বিদেশ সফর নিয়ে ক্রমশ বিতর্ক ঘনীভূত হচ্ছে। কিন্তু মনে করা হচ্ছে আগামী দিনেও মহম্মদ ইউনুসের এই বিদেশ সফর চলতেই থাকবে, তার কারণ বিদেশিরাই তাকে ক্ষমতায় এনেছে, আর তাদের ধন্যবাদ জানাতে তাই বারংবার বিদেশে ছুটে যেতেই হবে ইউনুসকে। অন্তরবর্তী সরকারের আমলে তবে কি পেল বাংলাদেশ? উঠছে প্রশ্ন।
৯ মাসের শাসনকালে ১০তম বিদেশ সফরে জাপানে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। কিন্তু এই সফর কোনও দ্বিপাক্ষিক সফর নয়, সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ইচ্ছাতে এই সফরে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য দাবী করছে, ডঃ মহম্মদ ইউনুসকে বিদেশ সফরে যেতেই হবে, যারা তাকে ক্ষমতায় আনলেন তাদের ধন্যবাদ জানাতে। প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফর করছেন,আর অন্যদিকে বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তারা, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সরকারি চাকুরী অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে অসহযোগ ঘোষণা করে সচিবালয় অবস্থান নিয়েছে। যদিও এই অবস্থান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এমনকি ইউনুসের কালাপাহারাঅস্ত্র নিয়ে সচিবলয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারী সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় দেখাচ্ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলছে, “জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত কালোব্যাজ ধারণ করে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের ক্যু অব্যাহত রাখলে, তাদের পরিণতি পতিত শেখ হাসিনার মতো হবে। বাংলাদেশের জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষন করছে। সাবধান থাকুন।”
আবার শোনা যাচ্ছে ঈদের আগেই তালিকা করে সচিব থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদেরও সাসপেন্ড করা হবে। আর সেখানে জুলাই সন্ত্রাসীদের নিয়োগ করা হবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ দেশজুড়ে এখন শুধুই বিক্ষোভ, সংঘর্ষ। সে দেশের শিক্ষকেরা ধর্মঘট শুরু করায় পড়ুয়াদের পঠন পাঠন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের তরফ থেকেও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হচ্ছে, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদল বিক্ষোভ চলছে। পাশাপাশি চলতি অর্থ বর্ষের প্রথমার্ধেই সেদেশের একুশ লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়ে পথে বসেছে। সূত্র বলছে এই 21 লক্ষ চাকরি হারাদের মধ্যে ১৮ লক্ষই নারী। অর্থাৎ একটা বিষয় স্পষ্ট যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শহীদ মিনারে সদ দফা দাবি নিয়ে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে দেশে যখন চারিদিকে বিক্ষোভ চলছে সাধারন মানুষ নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছে তখন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস নির্বিকার। হঠাৎ করেই নিজের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে চারিদিকে হইচই ফেলে দিয়ে, রওনা হলেন জাপান সফরে। আর এই সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি শোনালেন জাপান গিয়ে তিনি জাপানি ভাষা শিখে এসে বাংলাদেশের মানুষকে জাপানে কাজ করতে পাঠাবেন। কিন্তু রাতারাতি জাপানি ভাষা শিখে যে সাধারণ মানুষ জাপানে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারবে না সেটা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় আর এই অন্তর্বর্তী সরকার চাইছে এভাবেই বিভিন্ন লক্ষ্য সাধারন মানুষের সামনে রেখে পাঁচ সাত বছর তিনি সরকারের ক্ষমতায় থেকে মানুষকে বিভিন্ন প্রবণতা দেখিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করবে। আর সেদেশের অর্থনীতি সেই নিয়ে কথা তুললে নানা রকম অজুহাত সামনে আনছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তাদের একটাই দাবি এত বিক্ষোভ চললে দেশে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে কি করে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশীদের আধিপত্য না বাড়লে, ব্যবসা করা সম্ভব নয় এই ধরনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বিবৃতি জারি করছে সরকার। কিন্তু ক্ষমতার লোভী ইউনুস যে শুধুমাত্র নিজের লাভের আশাতেই বিদেশ সফর করছে সেটা বুঝতে হয়তো আর কারোরই বাকি নেই। তেমনভাবেই জাপানে তিনি কোন রাষ্ট্রীয়বাদ দ্বীপাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন না, নিকেই থার্টি নামে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে।












Discussion about this post