এতদিন মামলা দায়ের করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও। এবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক অপরাধে মামলা দায়ের হল। জানা যাচ্ছে, নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লুমেন কমিউনিট্যাটিস ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড পরিচালক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন আওয়ামি লীগের নেতা এবং সিলেটের প্রাক্তন মেয়র আনোয়ার-উজ্জামান চোধুরী। সেই মামলা দায়ের করার সঙ্গেই উপযুক্ত প্রমাণ এবং নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় বসার পরে সেটাই ছিল প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা। সূত্রের খবর, মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, নাহিদ ইসলাম, ইউনূসের বিশেষ সহযোগী মাহফুজ ইসলাম সহ মোট ৬২ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেবার। এবার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশিষ্ট সদস্যরা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ছাড়াও জাতিসংঘ ও ইন্টারপোলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, হিংসায় মদত দেওয়া এবং সাংবিধানিক অন্তর্ঘাতের অভিযোগ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা, পাল্টা মামলায় কার কি লাভ হবে?
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ‘গণহত্যার’ অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি-তে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলা দায়ের করেছিলেন একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী। তিনি সেি মামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছর ৫ অগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে। এমনকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। যা নিয়ে চিন্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা।
জানা যাচ্ছে, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়েই সাম্প্রতিক লন্ডন সফরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উন্মুখ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনও ভাবেই মুহাম্মদ ইউনূসকে পাত্তা দেননি। এমনকি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসও ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় দেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর জনপ্রিয়তা এবং পশ্চিমা দেশগুলির কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার কারণেই তাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার পদে বেছে নেওয়া হয়েছিল। সবটাই ছিল মার্কিন ডিপ স্টেটের পরিকল্পনা। তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল দুটি। একটি হল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি বিতারিত করা। এবং দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেওয়া। প্রথম কাজটি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন তিনি। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবারই ফের শেখ হাসিনাকে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের তিন সদস্যের বেঞ্চ। বিচারপতি আগামী ২৪ জুন ফের এই মামলা শুনবেন। তার আগে হাসিনার ঢাকার বাড়ি সুধা ভবনে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ জানিয়ে দিতে বলেছেন বিচারপতি। কিন্তু ওই বাড়িতে যে এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকেন না, তিনি থাকেন নয়া দিল্লির কোনও এক অজ্ঞাত ঠিকানায়, সেটা সকলেই জানেন। ফলে মামলা ও পাল্টা মামলায় জর্জরিত হচ্ছে দুই পক্ষই। অস্ট্রিয়ার দি হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আপাতত হাসিনা এবং ইউনূস, দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা চলমান। এখন দেখার, একের পর এক বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তাই এবার কি করবেন মুহাম্মদ ইউনূস?
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post