গভীর রাতে মুহাম্মদ ইউনুসের দেশ ছাড়ার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। জানা যাচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে ইউনূসের সঙ্গেই তাঁর মেয়ে এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও এবং ছবি কবেকার তা নিয়ে ধন্ধ রয়েছে। তবে মুহাম্মদ ইউনূস যে দেশ ছাড়তে পারেন, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ একশো শতাংশ নিশ্চিত। তবে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইউনূস সাহেব এবং তাঁর মেয়েকে। পাশে মুখে মাস্ক পড়ে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের ম্যাজিক ম্যান আশিক চৌধুরী। ভাইরাল হওয়া এই ছবি বা ভিডিও কবেকার তা অবশ্য যাচাই করতে পারেনি নিউজ বর্তমান। কিন্তু বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমও দাবি করছে, মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার গভীর রাতে কাতারগামী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনও আত্মগোপনে আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে বাংলাদেশে। যদিও বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমগুলি এখনও এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি।
ধরেই নেয়া যাক, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ ত্যাগ করেননি। তিনি এখনও সে দেশেই আছেন। কিন্তু এরপর তিনি কি করবেন, সেটাও একটা প্রশ্ন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে একটা ব্যাখ্যা কয়েকদিন আগেই দেওয়া হয়েছিল। ইউনূসের প্রেস উইংয়ের তরফে বলা হয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টা তিনটি কাজ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার দাবিদার। কিন্তু বিএনপি সরকার কি এথন তাঁকে রাষ্ট্রপতি বানাবেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করবেন? অনেকগুলি ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করছে ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়া। কিন্তু যতদিন তাঁকে রাষ্ট্রপতি না করা হয়, ততদিন কি তিনি বাংলাদেশে থাকার সাহস দেখাবেন? জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্তা ইতিমধ্যেই দেশত্যাগ করেছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যেও অনেকে বাংলাদেশ ছাড়ার তোড়জোড় করছেন। এর মূল কারণ হল, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের অডিট করতে পারে নতুন বিএনপি সরকার। ইঙ্গিত সেদিকেই রয়েছে। আর তা হলে ফাঁসবেন মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও। কারণ, তিনি তাঁর এবং তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক অভিযোগ ও মামলা খারিজ করিয়েছেন। এমনকি তাঁর সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে থাকা বিপুল অঙ্কের কর মকুব করিয়েছেন।
তিনি কাতারগামী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছেন কিনা সেটা নিয়ে রহস্য থাকতেই পারে। তা হয়তো দুই এক দিনের মধ্যে জানা যাবে। কিন্তু তাঁর এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঋণ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদরা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেকগুলি মেগা প্রকল্প স্থগিত করেছে এবং উন্নয়ন ব্যয় কমিয়েছে, তবুও কেন এত ঋণ নিতে হল! বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মোট ঋণ ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ঋণ দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকায়। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরেই সেখানে আরও ৫৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকেই বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। এর ফলে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত পুরোনো ঋণ শোধ এবং ঋণচাপ সামাল দিতেই নতুন ঋণ নিয়েছে। যা বর্তমান তারেক রহমান সরকারের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
এটা কেবলমাত্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঋণের হিসেব-নিকেশ। এরপরও রয়েছে নানা ক্ষেত্রে করা নানা বৈদশিক চুক্তির বিষয়গুলি। সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য শুল্ক চুক্তিও রয়েছে এই তালিকায়। যা তারেক রহমানের জন্য একটি বোম্ব সেল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কেউ কেউ দাবি করছেন, এই বিষয়টি সামাল দিতেই ইউনূসের আমলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন। তবে কি তিনি ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি করতে বাধ্য হবেন? কিন্তু যতক্ষণ না সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ মুহাম্মদ ইউনূসকে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কি তিনি দেশ ছাড়লেন? এর উত্তর অচিরেই পাওয়া যাবে।












Discussion about this post