বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বৈঠক সম্পন্ন হল লন্ডনে। যেটি সেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল একটি বৈঠক। সাড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি খরচ করে লন্ডন গিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। প্রায় দেড় ঘন্টার বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বিএনপির প্রস্তাবের কথা যেমন আছে তেমন তার প্রেক্ষিতে মুহাম্মদ ইউনূসের রয়েছে যদি এবং কিন্তুর কথা।
মনে করা হচ্ছে শুক্রবার লন্ডনে বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও তার একটা মানে তরফে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি নির্বাচন আদৌ আগানো হবে কীনা? অর্থাৎ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে কীনা সেটির ওপর প্রযোজ্য রয়েছে শর্ত। তবে বিএনপি এই বৈঠকে সন্তুষ্ট বলেই জানিয়েছে। কিন্তু এ বৈঠক বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দেড় ঘন্টার একান্ত বৈঠকে নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে? যদি হয়ে থাকে বাকি ইস্যুগুলি কি? তবে শুধু একটি ব্যক্তিগত পুরষ্কার নেওয়া আর এখনও শর্তযুক্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ করা হলো কেন? আরেকটি বিষয় বিএনপি যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পদত্যাগ চেয়ে সরব হয়েছিল সেই বিএনপিই এবার খলিলুর রহমানের সাথে বসে ব্রিফিং করলো কেন?
প্রধান উপদেষ্টার মোঃ ইউনুসের লন্ডন সফর বিতর্ক তৈরি করেছে নানা ইসুতে। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে এই সফরটিকে রাষ্ট্রীয় সফল বলা হলেও ইউনুস লন্ডনে পৌঁছাতেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার মোহাম্মদ ইউনুছের সঙ্গে বৈঠক করতে অসম্মতি প্রদান করেন ফলে প্রধান উপদেষ্টার এই সফর প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। আবার ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইউনুস কে কিন্তু সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছেন ইউনুস। পাশাপাশি চ্যাথম হাউসের একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের নানাবিধ এসো যেমন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ, ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ভাঙচুর ইত্যাদি কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল মোহাম্মদ ইউনুসকে। এমনকি বাংলাদেশের নাগরিকদের দুর্নীতিবাজ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্ট। সমস্ত কিছু মিলিয়ে শেষমেষ ব্রিটেনের একাধিক এমপির সঙ্গে বৈঠক হয় তার। তবে লন্ডনের মাটিতেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফর সঙ্গীরা। পরেও শেষমেষ ব্রিটেনের রাজা কিংস চার্লসের তরফ থেকে কিং হারমনি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস। এরপরে প্রশ্ন উঠেছে একপ্রকার ব্যক্তিগত সফল করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কেন এত বিপুল পরিমাণে অর্থ খরচ করলেন?
প্রধান উপদেষ্টা সহ তার দপ্তরের সহযোগীরা লন্ডন সফরে পৌঁছলে তাঁদের অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয় লন্ডন শহরের অন্যতম ব্যয়বহুল দ্যা হোটেল ডরচেস্টারে।রাতের জন্যে ৩৭ টি রুম রিজার্ভ করা হয়।
তাঁদের হোটেল বিলের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৩৯ জনের সফরদল তাদের রাতে অবস্থানের জন্য ব্যয় করা হয়েছে বায় ২১০.৩২৫ ব্রিটিশ পাউন্ড বা বাংলাদেশী মূল্যে সেটি প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল কক্ষ যেখানে অবস্থান করেন প্রধান উপদেষ্টা সেটি দৈনিক ৬০৪৫ পাউন্ড বা ১০ লক্ষ টাকায় ভাড়া করা হয়। কেবল তার কক্ষেরই বিল আসে ৪০ লক্ষ টাকা বা ২৪১৮০ পাউন্ড।
মনে করা হয় দেশের সরকার প্রধান অবশ্যই বিদেশ সফরে যেতে পারেন তার নিরাপত্তা ও মর্যাদা বিবেচনায়, যে কোনও শীর্ষ হোটেলেই তিনি ও তাঁর দল অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই সফরে বাংলাদেশ কি পেলো বা কিভাবে লাভবান হলো সেটা প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বিভিন্ন মহলের দাবি তিনি এখানে দ্বিপাক্ষিক কোন বৈঠকের জন্যে আসেননি সেটা নিশ্চিত। ব্রিটিশ রাজার কাছ থেকে বাক্তিগত পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কেবল। আর সব শেষে বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করেছেন।
কোন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানা যায়নি।
সূত্রের খবর, লন্ডনে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট থাকা সত্ত্বেও তিনি ও তাঁর দল ভ্রমণ করেছেন এমিরেটস এয়ারে, এমিরেইটসের ফার্স্ট ক্লাস ও বিজনেস ক্লাস যথেষ্ট ব্যয়বহুল। আর দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এড়িয়ে চলবেন এটাই তো কাম্য। কিন্তু বাস্তবে ঘটল একেবারেই বিপরীত ঘটনা।












Discussion about this post