বিদায়ের সুর বাজছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অন্দরে। উপদেষ্টা মণ্ডলীতে কোনও কোনও উপদেষ্টার বিদায় হতে পারে। কারণ কিছু কিছু উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার জামাত এবং এনসিপি একইদিনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাৎকারে বিএনপি সুনির্দিষ্টভাবে দুজন উপদেষ্টার নাম নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এবং তাদের বদল চায় বিএনপি। এমনটাই দাবি জানিয়েছে তারা। এদিকে খবর, কোনও কোনও উপদেষ্টা পদত্যাগের জন্য তৈরি হচ্ছেন। তবে কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে চলেছে ইউনূস সরকার? এইবার কি সিংহাসন ছাড়বেন ইউনূস? তবে বিএনপির চোখে বিতর্কিত উপদেষ্টা কারা?
জানা যায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার দেখা করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। সেই বৈঠকে কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। বিএনপির অভিযোগ, কিছু কিছু উপদেষ্টা প্রশাসনের হয়ে কাজ করছে। প্রশাসনের রদবদল বা পদায়নের জন্য প্রশাসন সম্পর্কিত ক্যাবিনেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চারজন উপদেষ্টা ও ক্যাবিনেট ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব এবং জন মন্ত্রনালয়ের সচিব রয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, ওই ক্যাবিনেট কমিটি নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে তারা। দলটির যে নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন, তাদের একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিতর্কিত উপদেষ্টার নাম তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন। জানা যায়, বিতর্কিত উপদেষ্টার নামের তালিকায় রয়েছেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফয়জুল কবীর খান, তিনি প্রশাসনিক রদ বদল ক্যাবিনেট কমিটিতে রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন, মাহফুজ আলম এবং আসিফ মুহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া। বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সরকারে যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে, তাদের যেন সরিয়ে দেয় সরকার। উপদেষ্টা ফয়জুল কবীর খান একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সরকার ঠিকঠাক কাজ করছে। অর্থাৎ তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এদিকে সূত্রের খবর, সরকারি দুই উপদেষ্টাকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খবর, তারা নাকি আরও সময় নিতে চেয়েছিলেন। তারা হলেন, মাহফুজ আলম এবং আসিফ মুহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া। সূত্র বলছে, মাহফুজ আলম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এখনও পর্যন্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তিনি এখনও ক্ষমতায় থাকতে চান। তবে জানা যাচ্ছে, আসিফ মুহাম্মদ সজীব ভূঁইয়া আগামী নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে পারেন। অবশ্য এই বিষয়ে তেমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে ১৪ই অগাষ্ট আসিফ মুহাম্মদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম, গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দু মাস ধরে তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অর্থাৎ, উপদেষ্ঠা মণ্ডলীতে কেউ কেউ নিজে থেকে পদত্যাগ করতে চাইছেন। তবে জামায়েত কোনও উপদেষ্টার নাম করে পদত্যাগ চায়নি। কিন্তু সূত্রের খবর, উপদেষ্টা মণ্ডলীতে একটি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পদত্যাগ করার প্রস্তুতি। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশে সেফ এগজিট শব্দবন্ধটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম এই তত্ত্ব প্রথম প্রকাশ করেন। তারপর থেকেই এটি নিয়ে বিতর্ক ছড়ায়। তবে কি সত্যি সত্যিই বাংলাদেশে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্দরে উপদেষ্টারা সেফ এগজিট খুঁজছে? যদিও এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আর কিছুদিনের মধ্যেই সামনে চলে আসবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post