ইউনূসের কাছে বন্দি বাংলাদেশ। ফোনে কথা বললেই রেকর্ড করা হবে। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্তে বিপদে বাংলাদেশ। আসলে সরকার চাইলে যে কারও ফোনে আড়ি পাততে পারবে। কি কথা হচ্ছে, কি মেসেজ যাচ্ছে, সবটাই জানতে পারবে সরকার। সাধারণ মানুষের যে কোনও ব্যক্তিগত কথা সরকারের বিশেষ সংস্থার কাছে চলে যেতে পারে। তার ফলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়তে পারে। মজার বিষয় হল, এই একই সিদ্ধান্ত যখন আওয়ামী লীগ সরকার নিতে যায়, তখন বাংলাদেশের সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন কালীন সরকার বিগত সরকারের সমস্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছে। দেশের মানুষ অনেকেই সমালোচনা করেছে। তবে এখন সেই আইন কেন করা হচ্ছে?
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ফোনে আড়ি পাতবে সরকার অনুমোদিত সংস্থা। এই একই কথা বলেছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যেটা এক বছর আগে। সেখানেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইন সম্মতভাবে আড়িপাতার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সাধারণের ফোনে আড়ি পাতা, এটা কি নাগরিকের অধিকার খর্ব করা নয়? এটা বলা হয়েছিল গত বছর। কিন্তু এবারে কেন কোনও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না? জানা যাচ্ছে, সরকারের অনুমোদিত সংস্থা ফোনে আড়ি পাতবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে অনুমোদনহীন কোনও সংস্থা আড়ি পাতবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভাশেষে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান এই কথা। তিনি জানান, সরকারের যে সমস্ত সংস্থা অথরাইজড, তারাই ফোনে আড়ি পাতবে। যাদের অনুমোদন দেওয়া হবে না, তারা আড়ি পাততে পারবে না। অন্যদিকে বলা হয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরত্ব-সহকারে দেখছে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রালয়। তবে আওয়ামী লীগের আমলে যে যে কর্মকাণ্ড হয়েছে, সেগুলিই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে। কিন্তু কোনও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। তবে প্রশ্ন তোলা হলে, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিপদ বাড়বে। বলছেন বিশেজ্ঞরা। তারা বলছেন, যদি আওয়ামী লীগের আমলে সরকার এি সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে ভুল করে থাকে, তেবে সেই ভুল কেন ফের করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন যদি সাধারণ মানুষ তুলতে থাকে, তবে বিপদে পড়বে ,অন্তবর্তীকালীন সরকার। এমনকি বাংলাদেশের মানুষ যদি বলে থাকে, এই সরকারের থেকে আগের সরকারই ভালো ছিল, তাহলে এই সরকারের পতনের সন্ধিক্ষণ যে এগিয়ে আসছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনতেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বহু মানুষ ক্ষিপ্ত। হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সম্পত্তি বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে যে খবর চাইর হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। এমনকি দেশের বর্তমান রাজনীতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে রাজনীতি সচেতন মানুষরাও ভালোভাবে নিচ্ছে না। আর এরমধ্যে সাধারণের ফোনে আড়ি পাতার সিদ্ধান্ত আরও বড় বিপদ ডেকে নিয়ে আশতে পারে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, এরপর এই সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে কিনা সরকার!












Discussion about this post