অবশেষে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ‘দরবার’ অনুষ্ঠিত হলো। এই দরবারটি বাতিল করার জন্য নানা রকম চেষ্টা চালিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার ও তার উপদেষ্টারা। কারণ সে দেশের অন্তর্ভুক্তির সরকার ভীত সন্ত্রস্ত এই দরবারের অনুষ্ঠানে সেনা কর্তাদের আলোচনার মাধ্যমে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরোধী বিভিন্ন সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে। তবে বুধবার এই দরবার অনুষ্ঠিত হয় সেনার সদর দপ্তরে। ঢাকায় উপস্থিতিতে একাধিক সেনা সদস্য ও সেদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একাধিক সেনা সদস্যরা এই দরবারে যোগ দেন। এই দরবারে সেনাপ্রধান নিজের বক্তৃতা রাখার পাশাপাশি উত্তর দিয়েছেন সমস্ত সেনা সদস্যদের প্রশ্নের।
উল্লেখ্য, সেনা সদর দফতরের এই বৈঠকে সেনাপ্রধান জানান, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটপর্ব মিটিয়ে, আগামী বছর ১লা জানুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান তিনি এবং একটি নির্বাচিত সরকারের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিয়ে সেনারা ব্যারাকে ফিরুক।
সূত্রের খবর, ঢাকা সেনা সদর দফতরে সেনাকর্তাদের দরবার অনুষ্ঠানে বুধবার সেনাপ্রধান ওয়াকার বলেন, ‘করিডর হোক বা বন্দর বা সেন্ট মার্টিন অথবা দেশের সংস্কার সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেশের নির্বাচিত সরকারের।
এমনকি আগামী বছর জানুয়ারিতে নতুন স্থায়ী সরকার নির্বাচনের জন্য যে সকল প্রক্রিয়া অর্থাৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি কবে নেওয়া হবে? কবে প্রচার চালানো শুরু হবে? কবে নির্বাচনহবে? কবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হবে? এই সমস্ত কিছু মাধ্যমে স্থির করার কথা উল্লেখ করেছেন সেনাপ্রধান। অর্থাৎ নতুন নির্বাচিত সরকার গঠন ও সাধারণ নির্বাচনের জন্য সমস্ত সরকারি কার্যকলাপ শুরু করার এক প্রকার নির্দেশ দিলেন তিনি।
আবার সেনাপ্রধানের ভাষণের সময় উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ সেনার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কমান্ডিং অফিসার জানান, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার এবং জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না এবং কোনও পরিস্থিতিতেই এর সঙ্গে আপস করা উচিত নয়”। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য থেকেই পরিস্কার, ইউনূস সরকার যতই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুক, তিনি তা মানেন না। অর্থাৎ, আসন্ন যে নির্বাচনের কথা তিনি বলেছেন, সেখানে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহন করা কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ, সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনী এই ধরণের প্রচেষ্টাকে মেনে নিচ্ছে না, সাফ বার্তা সেনাপ্রধানের।
এর পাশাপাশি গোটা দেশ জুড়ে চলা মব জাস্টিসের প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর জিরো টলারেন্সের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অর্থাৎ মব জাস্টিসের নামে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি কিছুই আর মেনে নেবে না সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য এই বৈঠকের বিভিন্ন আলোচনার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে দিয়েছে রাখাইনে মানবিক করিডোর দেওয়ার প্রসঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের বিধ্বস্ত রাখাইন প্রদেশে ত্রাণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে করিডর হিসাবে ব্যবহারে সম্মতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এত দিনের জমা আগ্নেয়গিরিতে যেন বিস্ফোরণ ঘটলো । ইউনূস সম্প্রতি মোহাম্মদ ইউনুস বিদেশ থেকে খলিলুর রহমান কে নিয়ে এসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। এই কাজেও সেনাপ্রধানের সমর্থনের প্রয়োজন মনে করেনি প্রধান উপদেষ্টা। আর মোহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে অনির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রকাশ্যে এনে তার এক্তিয়ার বুঝিয়ে দিয়ে দেশে নতুন শাসন চালু করার বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।












Discussion about this post