এইবার কি খেলা ঘুরতে চলেছে বাংলাদেশে? কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে চাইছেন। তিনি নাকি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রনেতা সমন্বয়করা মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাকে বোঝাতে। যাতে কোনওভাবেই পদত্যাগ না করেন মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্দরে। আবার অনেকে বলছেন, এটি নাটকও হতে পারে। এরকম একটি খবর চাউর করে জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করছেন মহম্মদ ইউনূস।
এর আগেও মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ ঘিরে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এখনকার গুঞ্জন নিয়ে বেশি করে কাটাছেঁড়া করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ সময়টা এখন তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, সেনাবাহিনী এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব প্রকাশ হয়েছে। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে মতানৈক্য সামনে এসেছে বিভিন্ন সময়। তার প্রমাণও পাওয়া গেল 21শে মে বুধবার। এমনকি এটাও সত্যি, করিডোর ইস্যুতে সেনাপ্রধান কে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, তিনি রাজি হননি। এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে তারা জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনও সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এর মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। তার ফেসবুক পোস্টটি আবার শেয়ার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ফলে বোঝায় যাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের অন্দরে একটি গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাহফুজ আলম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ব্যক্তির আদর্শ সম্মান ও আবেগের চেয়ে দেশ বড়। এখানে আবেগ বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন তিনি? মোহাম্মদ ইউনুস যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, সেটাকে অভিহিত করার চেষ্টা করছেন নাকি তাদের রাজনৈতিক দল একের পর এক যে কাজ করছে, তাকে আবগ বলছেন? তিনি লিখেছেন, দেশ প্রেমিক শক্তির ঐক্য অনিবার্য। আগেকার যেকোনও বক্তব্য বা শব্দ চয়ন যা বিভাজনমূলক ছিল, সেগুলির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সরকারে আর একদিনও থাকলে অভ্যুত্থানের সকল শক্তির প্রতি সম্মান এবং সংবেদনশীলতা মেনে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের শত্রুরা ঐক্যবদ্ধ এবং আগ্রাসী। সর্বভৌমত্ব এবং সকল প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে। গত জুলাই আন্দোলনে যারা ছিলেন তাদের জন্য এটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হবে।
এদিকে এটাও শোনা গিয়েছে, মোহাম্মদ ইউনুস ছাত্র নেতাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সেই জায়গা থেকে মাহফুজ আলমের এই পোস্ট কিনা, সেটা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা করছেন। এদিকে সেনাবাহিনী বহু ধৈর্য ধরেছে। অবশ্য সেই ধৈর্য অনেক সময় সাধারণ মানুষকে হতাশও করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী একটি শৃঙ্খলা মেনে কাজ করে। তাদের যখন মনে হয়েছে রাস টানা প্রয়োজন, তখনই তারা সেটা করেছে। বুধবার সেনাপ্রধান সেনানিবাসের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও রকম মব কালচার বা মব ভায়োলেন্স সহ্য করা হবে না। ফলে এটাই বিশ্বাস করা যায়, সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান চুপ করে বসে থাকবে না।
সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এখনই কেন মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করতে চাইছেন? সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, তিনি ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে গিয়ে অনেক জটিলতার মধ্যে পড়ে গিয়েছেন। তিনি নিজে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। নির্বাচন ইস্যুতে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি। সম্প্রতি যে সিদ্ধান্তগুলি তিনি নিচ্ছেন সেগুলি ঠিক নয়। করিডোর এবং বন্দর ইস্যুতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ এই সরকারের প্রতি। মৌলবাদীরা মাথাচালা দিচ্ছে, অর্থনীতির পরিস্থিতি একেবারেই ভালো নয়। বিনিয়োগের যে গল্প শোনানো হয়েছিল, সেই গল্প গল্পই রয়ে গিয়েছে। গোটা বাংলাদেশের যে বিদেশি শক্তির হাতে চালিত হচ্ছে, সেটা জানেন ইউনূস। আর সেটা করতে দেওয়া হবে না বলে, সেনাবাহিনী কঠোর হচ্ছে। এমনকি অভিযোগ এসেছে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত কালীন সরকার জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করছে। যখন সরকারের প্রতি একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে তখনই মহম্মদ ইউনুস সমস্ত কিছু ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। এই কথাটাই অনেক আগে আলোচিত হয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। অর্থাৎ দেশ যখন বিপদে, তখনই পালিয়ে গিয়ে বাঁচতে চাইছেন নোবেল জয়ী। এখন দেখার, শেষমেষ কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হন মহঃ ইউনুস।












Discussion about this post