জাপান সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি জাপান সফর শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে, নতুন কিছু করবেন। বলছেন অনেকে। কিন্তু কি ঘোষণা করবেন মহম্মদ ইউনূস? কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে অস্থায় না আনতে পারলে , ইউনুস থাকবেন না। তাহলে কি তিনি পদত্যাগ করতে চাইবেন? নাকি অন্য কোন সিদ্ধান্ত, যেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে দিতে পারে? এরকম একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্নে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনীতি।
এদিকে তার এই সফর রাষ্ট্রীয় সফর নয় বলে জানা যাচ্ছে। তিনি সম্মেলনে যোগ
দিতেই সেখানে গেছেন বলে খবর। এদিকে শফিকুল আলম বলছেন,এক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এরকম সম্ভাবনা প্রতিটি সফরের আগেই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সেগুলি কোনওটি বাস্তবিক রূপ পায়নি। আদেও কি হতে চলছে, এখন সেই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা যখন জাপান সফর করলেন, তখন রাজনৈতিকভাবে অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে গোটা দেশ। বিভিন্ন স্তরে আন্দোলন চলছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলাদেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বিদেশ সফরে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। জাপানের টোকিওতে ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি তারো আসর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তিনি সেখানে পুরোনো কথাই বলছেন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে। তিনি বলেছেন, আগামী জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে। অর্থাৎ মহম্মদ ইউনূসের প্রথম থেকে যে বক্তব্য সেটাতেই তিনি অনড়। এমনকি তিনি বলেছেন,একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে মধ্যে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তার পক্ষে রয়েছে। আর বিএনপি এই মুহূর্তে দেশে সবথেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল, সেটা যেন মানতে নারাজ প্রধান উপদেষ্টা! আদতে কি চাইছেন তিনি? আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ফের বিএনপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাকি রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়েই কি দেশ চালাতে চাইছেন মোহাম্মদ ইউনুস? বাংলাদেশে এই মুহূর্তে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা প্রায় ৪৬ টি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি সেই নামগুলো জানেন? কারণ এখনো পর্যন্ত, তাদের মুখে তিন থেকে চারটি দলের নাম শোনা গিয়েছে। সরকারের কাছে এবি পার্টি থেকে এনসিপি প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। অন্তত তাদের কথা শুনে সেটা স্পষ্ট। অন্যদিকে বিএনপি তারুণ্যের সমাবেশ করল তখন দেখা গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমাগম। বিএনপি বাদ দিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমাগম কি আদৌ হবে? তাহলে কিসের ভিত্তিতে শুধুমাত্র বিএনপিকে একটি রাজনৈতিক দল তাদের বিপক্ষে বলে ইঙ্গিত করছে? বাকি রাজনৈতিক দলগুলি পক্ষে থাকলে কি সরকার তাদের সমর্থন নিয়ে না কিছু করতে পারে?
এদিকে বা হচ্ছে, জাপান সফর শেষ করে দেশে ফিরে, নতুন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে অস্থায় না আনতে পারলে , ইউনুস থাকবেন না। তাহলে কি তিনি পদত্যাগ করতে চাইবেন? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠে যাচ্ছে। এমনিতেই বিএনপি বলেছে, এই সরকার যদি ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা না দেয়, তবে তারা আন্দোলনে চলে যাবে। আর এই সরকার ভালোভাবেই জানে, যদি বিএনপি’র মত একটি শক্তিশালী দল আন্দোলন করে, তবে সরকারের টিকে থাকতে পারবে না। অন্যদিকে কেউ বলছে, মোহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়টি নাটক ছিল। এগুলোই তার কাল হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটা মনে করা হচ্ছে, জাপান সফর শেষ করে আসার পর জাতীয় সরকারের পদ্ধতিতে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা হতে পারে। যেখানে ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হবার অফার দেওয়া হবে, যদিও বিএনপির জাতীয় সরকারের সিদ্ধান্তে রাজি হবে কিনা সেই নিয়ে সন্ধিহান রয়েছে। তাহলে মহম্মদ ইউনূসের কাছে কোন পথ খোলা রয়েছে? হয় বিএনপি এবং সেনা বাহিনীকে আস্থায় নিয়ে সরকার পরিচালনা করা কিংবা সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে বাকি ২২ টা দলকে নিয়ে সরকার যা খুশি করতে পারে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এমনিতেই সেনাবাহিনীর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপোষ নয়। ফলে মোহাম্মদ ইউনূসের কাছে সম্মানজনক পদ হিসেবে খোলা রয়েছে একমাত্র পদত্যাগ। আর সেই কারণেই কি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছিলেন? এই সময় এই প্রশ্নটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে সরকার সংস্কার করার কার্যক্রম নিজে করছেন, ১৩ টি বিষয়ের মধ্যে বিএনপি একটিমাত্র বিষয়ে আংশিক সম্মতি জানিয়েছে। কাজেই তাদের কার্যক্রম যে সফল হচ্ছে না সেটা পরিষ্কার। ফলে এখানেই বসে যাচ্ছে, জাপান সফরের পর কোন একটা বড় সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে বাংলাদেশে।












Discussion about this post