এত চাপ কারও পক্ষে নেওয়া সম্ভব?
মানুষটা দিল্লি থেকে নিয়ে গিয়েছেন ডোভালের চাপ। দোহা থেকে চার দেশের চাপ। আমেরিকা আগে যাওবা তাঁর পাশে ছিল, এখন তারাও সটকে পড়েছে। উলটে চাপ দিচ্ছে। কারণ, সিআইএ তাঁর কুকীর্তি ফাঁস করে দিয়েছেন। আপাত শান্ত, শিক্ষিত মানুষটা তলে তলে আলকায়দার পকেটে টাকা ঢালতেন। এই অবস্থায় তিনি চিনকে পাশে পাওয়ার একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে ভদ্রলোক কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে তো প্রশ্ন থাকছেই। এই অবস্থায় ডেকে বসলেন ক্যাবিনেটের বৈঠক। বৈঠক হয়েছে টেকনেকের। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইউনূস তাঁর কচি সংসদের সদস্যদের জানিয়েছেন তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের হাতে দেশ তুলে দেবেন না। তিনি এটাও বলেছেন, ছাত্রনেতাদের আবার কাছে টানার দরকার। কারণ, ওই ছাত্রনেতাদের জন্যই তো তিনি ক্ষমতায় আসীন হতে পেরেছেন। তাদের প্রতিদান তিনি ভোলেন কী করে?
বোঝাই যাচ্ছে কার কথা বলা হচ্ছে। নোবেল ম্যান ইউনূসের কথা। দোহা যান তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছিলেন রয়ের দু’জন অফিসার। আমেরিকার তরফ থেকে বৈঠকে ছিলেন দোহায় তাদের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স। তুরস্কের তরফে ছিলেন তাদের বিদেশমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আমির। খলিলুরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সেক্রেটারি। বৈঠকে খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বুধবার অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে আইএসআই-য়ের ক্লাব আছে, সব সরিয়ে ফেলতে হবে। সে দেশে পাকিস্তান এবং তুরস্কের ১৭ জন করে মোট ৫৪ গুপ্তচর রয়েছেন। এদের সকলকে তাদের দেশে ফিরে যাওয়া নির্দেশ দিতে হবে।
এদিকে, ভারত ১৪ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নোটাম জারি করেছে। ভুগোলের হিসেবে বিশাখাপত্তনম থেকে আন্দামান পর্যন্ত, যার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে সেভেন সিস্টার্স। বলা হচ্ছে, এটা একটা বেনজির ঘটনা। ইতিহাসে এই নজির নেই। সাউথব্লক শুধু নোটাম জারি করেই ক্ষান্ত থাকেনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রাজ্যে মজুত করেছে সেনা। সেখানে রাখা হয়েছে রাফাল, মিরাজের মতো যুদ্ধবিমান। এই তিন সীমান্তরাজ্য হল অসম, মণিপুর এবং মেঘালয়। অনেকে বলছেন, সামরিকদিক থেকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতেই সাউথব্লক এবং দিল্লির সেনাভবন এই যৌথ কৌশল নিয়েছে।
বিষয়টা আদৌ নয়। কারণ, যেদিন এই প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর, এই দিন রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে দোহার আল্টিমেটাম। বুধবার রাত ১২টার মধ্যে দোহা থেকে ঢাকাকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সেটা পুরোপুরি তাদের কার্যকর করতে হবে। এর আগে ঢাকাকে যা করতে বলা হয়েছিল, সেটা তারা পুরোপুরি করেনি। ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠকে সেটা খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়। ভারত যে আর চুপচাপ বসে থাকবে না, সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার পালা শেষ। এবার হাতে-কলমে করে দেখানোর পালা।
এই পরিস্থিতিতে ইউনূস সরকার ডাকলেন তাঁর মন্ত্রিসভার জরুরী বৈঠক। তিনি যদি মনে করেন গত অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের আবার কাছে টেনে বাঁচার জন্য ঢাল হিসেবে তাঁদের ব্যবহার করবেন, তাহলে বলতে হয় তিনি মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। না হলে বিপুল পরিমাণে গঞ্জিকা সেবন করেছেন। সাউথব্লক থেকে সেনা শুধু নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সেই নির্দেশ হল – স্ট্রাইক।












Discussion about this post