একদিকে প্রবল চাপ। বিশেষ করে ট্রানসিপমেন্ট বাতিল ও ভারতের স্থলবন্দর গুলি বন্ধ করার ফলে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতি অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ। এই মুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করা ছাড়া সেরকম কোনও গতি নেই। কারণ, বাংলাদেশের শিল্প মহল ও রফতানিকারকরা বহিরবিশ্বে যত না বাণিজ্য করতো, তার থেকে অনেক বেশি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করতেন তাঁরা। এটা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ওপর একটা প্রবল চাপ আসতে শুরু করেছে ব্যাবসায়ীমহল থেকে। সেই কারণেই ভারতের সম্পর্কে কিছুটা সুর নরম করতে শুরু করেছে ঢাকা। বিশেষ করে ভারতের পুশ ব্যাক নিয়ে একেবারেই মুখে কুলুপ এঁটেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কূটনৈতিক মহল মনে করছেন এটা সূচনা হতে পারে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে। কিন্তু ৮৪ বছরের বৃদ্ধ মুহাম্মদ ইউনূস যেমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তেমনি তার ক্ষমতার লোভ অনেকের থেকে বেশি। ফলে গোপনে ভারতকে প্যাচে ফেলার নানা ফন্দি এঁটে চলেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।
মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তে পাকিস্তানের মিত্র তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছেন। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই তুরস্ক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক জোট দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনীতি বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ ভারতকে প্যাঁচে ফেলার মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি প্রথমে চিন ও পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ভারতকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারস্পরিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে বেজিং বা ওয়াশিংটন কেউই ভারতকে চটাতে চায়নি। কিন্তু তুরস্ক নিজে থেকেই ভারতের বিপক্ষে দাঁড়াতে পিছপা নয়, সেটা অপারেশন সিঁদুরের সময় তুর্কি রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সরাসরি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমান করে দিয়েছিলেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে মরিয়া মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি তাঁর দূত পাঠিয়ে দিলেন ইস্তম্বুলে। ইউনূস সামরিক কূটনীতির আড়ালে একটি নতুন বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করে নিলেন। বাংলাদেশে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে চিন দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী শক্তি। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বেজিং সফর কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই বাতিল করা হয়েছিল। তেমনই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিব হালুক গোর্গুনের ঢাকা সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি ঢাকায় এসে বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গেও যেমন বৈঠক করেন, তেমনই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই নতুন ঘনিষ্ঠতার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল অস্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে। তুর্কি রাষ্ট্রপতি এরদোগান যেমন খিলাফত-যুগের প্রভাব পুনরুজ্জীবিত করার স্বপ্ন দেখেন। তেমনই, ইউনূস বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। উভয়ই ইসলামী বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া অতীতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ফলে চিন বাদ, বাংলাদেশের মাটিতে ঢুকে পড়ছে তুরস্ক।
গত বছরই দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশ নীরবে তুরস্কের এমকেই কর্পোরেশন থেকে ১৮টি বোরান ১০৫ এমএম হাউইটজার বন্দুক কিনেছে। এটা ছিল প্রাথমিক লক্ষণ। জানা যাচ্ছে আগামীদিনে তুরস্ক থেকে আরও ২০০ ইউনিট ১০৫ এমএম হাউইটজার বন্দুক কিনতে চলেছে ঢাকা। পাশাপাশি পাইপলাইনে তুরস্কের তৈরি TRG-230 এবং TRG-300 রকেট সিস্টেম রয়েছে। এছাড়া তুরস্ক থেকে হালকা ও মাঝারি পাল্লার ট্যাঙ্ক কেনার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি গুলি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি অনেকটা বাড়বে। যা মূলত ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যই কিনতে চাইছে ঢাকা। এটা ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা বড় হুমকি হতে চলেছে। এখন দেখার ভারতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কি চাল দেন। কারণ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে তলে তলে যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন, তা ভারতের পক্ষে মোটেই মঙ্গলজনক নয়। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এর আগে বহুবার বলেছেন, যে দিল্লি ঢাকার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। ফলে বাংলাদেশে পাক-তুরস্ক যোগ ভারতের জন্য মারাত্মক হয়ে পারে সেটা নিশ্চই জানে নয়া দিল্লি।












Discussion about this post