কথায় আছে অর্ধশিক্ষিতর থেকে মূর্খ থাকা অনেক ভালো। অন্ততপক্ষে কখনো ভুল সিদ্ধান্ত তো আর নিতে হবে না। বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে তাকালে এই বিষয়টি মাথায় আসে। মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতবিদ্বেষ দেখাতে গিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ালটি মেরে বসে আছেন। বুঝতে পারলেন কিছু আসুন তাহলে বিস্তারিত ভাবে আপনাদের বিষয়টি প্রতিবেদনের মাধ্যম দিয়ে বুঝিয়ে বলছি। ‘ক্রিকেট’যার জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ড অর্থাৎ ইংরেজদের হাত ধরে। ক্রিকেটকে বলা হয় বরাবরই ভদ্রলোকের খেলা। ক্রিড়া এমন একটি বিষয় যেখানে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে মানুষের চিন্তা ভাবনা দূর ও শরীর-স্বাস্থ্যে ভালো রাখতে খেলার থেকে আর ভালো কোন মঞ্চ হতে পারে না। কিন্তু ওই যে একটি প্রবাদ আছে -‘চাষা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী’মোহাম্মদ ইউনুস ও তার সরকারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকেই দাঁড়িয়েছে। বরাবর ভারত বিদ্বেষ ছিল ইউনুসের মূল মন্ত্র। আর সেই মন্ত্র উনি অস্ত্র হিসাবে খাটিয়ে দিলেন ক্রিকেট মঞ্চেও। মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে প্রথম সূত্রপাত তারপরে পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে আজ বাংলাদেশ আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে না খেলতে চাওয়ায় আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেই বাদ পড়ে গেছে। সার্বিকভাবে ইউনুস সাহেব এই বিষয়টিকে নিজের জয় মনে করলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট অর্থাৎ টাইগার বাহিনী এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে খোদ মোহাম্মদ ইউনূসের উপরেই। দেখুন মোহাম্মদ ইউনুস আজ বাংলাদেশের ক্ষমতায় আছে আগামী দিনে না থাকাটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আইসিসি ক্রিকেট পয়েন্ট তালিকা হিসাবে বাংলাদেশের এই বিশ্বকাপ বয়কট করার পরিপ্রেক্ষিতে যে চরম ক্ষতি হয়ে গেল আদৌ কি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ফিরে পাবে আইসিসির পয়েন্ট তালিকা? অন্যদিকে আবার এই বিশ্বকাপ না খেলায় যে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সেই ক্ষতি কি কোনদিন পূরণ হবে?
দুটো প্রশ্নের উত্তর একটাই- ‘না’।
আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দু পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় ছিল শেষ পর্যন্ত। তার জন্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না আর। ভারতে নিরাপত্তা নেই, এই কারণ দেখিয়ে এ দেশে ম্যাচ খেলতে আসতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তারা।অন্যদিকে আইসিসির পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ভারতে নিরাপত্তার কোনও সমস্যাই নেই। কিন্তু তাও বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অনেক থাকলো শুধুমাত্র ভারত-বিদ্বেষকে বড় করে তুলে ধরার জন্য।কিন্তু এতে করে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে।
আসুন এবার তাহলে কিভাবে কত টাকার লোকসানের মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেইটারই পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা যাক।
বিভিন্ন সংস্কার প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আইসিসির তরফে বার্ষিক রাজস্ব হিসেবে ভারতীয় টাকার অঙ্কে ২৪০ কোটি টাকা যার মোটামুটি অঙ্ক ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও স্পনসরশিপ, সম্প্রচার স্বত্ব সবেতেই প্রভাব পড়বে। ম্যাচ ফি-র বেতনেও প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরবর্তী সূচিতে প্রভাব পড়বে। এত মিলিয়ন কোটি টাকার খরচ সামলে উঠে আদৌ কি ভবিষ্যতে আর কোনদিন আইসিসির পয়েন্ট তালিকায় ফিরতে পারবে বাংলাদেশের টাইগাররা? এই প্রশ্ন আজ শুধু আমাদের না এই প্রশ্ন তুলছে বিশ্বের বিভিন্ন মহল।
শুধু এখানেই শেষ নয় আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় দলের পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাংলাদেশ সফর রয়েছে। সেই সফরও বাতিল হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে সফর বাতিল মানে সেখানেও মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। উল্লেখ্য, এই ঘটনা প্রবাহের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রতি বছর আইসিসি থেকে যে অর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পায় তা আইসিসির আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমনকে কেকেআরকে বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় বিষয়টি। বিসিবিও এরপর জানিয়ে দেয় যদি ভারতে তাদের ক্রিকেটারদের পাঠানো সুরক্ষিত মনে করছে না তারা।আইসিসিকে তারা জানায় যে গ্রুপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় যেন আয়োজন করা হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও সুযোগ বুঝে বিসিবির পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে চিঠি পাঠায়। তবে চিড়ে ভেজেনি কিছুতেই। আইসিসি জানিয়ে দেয় যে- বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসে তাহলে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ এরপরও তাদের অবস্থা থেকে না সরে আসার ফলে ভারত শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
এর ফলেই মুহম্মদ ইউনূস ও তার মুষ্টিমেয় অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের ভারতবিদ্বেষকে বড় করে তুলে ধরতে বলি দিলেন নিজেদের দেশের ক্রিকেটকে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post