দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের আঁচ সর্বভারতীয় রাজনীতিতে। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে তিনি গণধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়ি ওড়িশায়। স্বভাবতই বিজেপি শাসিত ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছেন। যা নিয়ে সরব তৃণমূল কংগ্রেসও। সরব এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ড নিয়ে দুই পড়শি রাজ্যের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী গত শুক্রবার রাতে গণধর্ষিতা হয়েছেন বলে অভিযোগ। যা নিয়ে এমনিতেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দল বিজেপি ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। এবার আসরে নামলো ওড়িশা সরকার। কারণ নির্যাতিতা ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার বাড়ি ওড়িশায়। তিনি দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আবাসিক। ওড়িশার মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতন নিয়ে মুখ খুলেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল দেখা করেছেন নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়ার সাথে। এবার টেলিফোনে কথা বললেন স্বয়ং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, তিনি নির্যাতিতা তরুণী ও তাঁর পরিবারকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
এক বছর আগেই কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক তরুণী পড়ুয়া চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। আজও সেই ঘটনার রেশ কাটেনি। এখনও আর জি কর নিয়ে আন্দোলন চলছে নির্যাতিতার পরিবারের। এই অবহেই দুর্গাপুরে ঘটে গেল আরেক নারকীয় ঘটনা। এখানে গণধর্ষণের শিকার আরেক ডাক্তারি পড়ুয়া। স্বভাবতই রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত ওই নির্যাতিতাকেই ঘুরিয়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন। ঘটনা রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ঘটলেও মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন ঘটনা নাকি মাঝরাতের। তাঁর প্রশ্ন, কেন এত রাতে হোস্টেলের বাইরে বেরিয়েছিলেন ওই তরুণী?
মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্য রাখার পরই তৃণমূলের মন্ত্রী সাংসদরাও একই দাবি করতে থাকেন। যা নিয়ে সরব বিজেপি, সিপিএমের নেতারা। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে যখন দেখা যাচ্ছে ঘটনাটি সাড়ে আটটার মধ্যে ঘটেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা রটাচ্ছেন। এই বিষয়ে যখন শাসক ও বিরোধীদের তরজা চলছে, ঠিক সেই সময়ই আসরে নেমেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশা। সূত্রের খবর, ফোনে নির্যাতিতার উদ্দেশে মোহন চরণ মাঝি বলেছেন, “চিন্তা করবেন না। ওড়িশা সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব। ধৈর্য রাখো, সাহস হারিও না”। পাশাপাশি নির্যাতিতা তরুণীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, “তোমার পড়াশোনা যেন কোনওভাবে বন্ধ না হয়, তার জন্যও সব ব্যবস্থা করা হবে”। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। পরে এক্স হ্যন্ডলে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলতে সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে। ওই পোস্টে তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেও ট্যাগ করে লেখেন, আমি নিজেও এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। খবরটা শুনেই খুব বিচলিত হয়ে গিয়েছিলাম। আপাতত সে রাজ্যের সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার একটাই আর্জি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য় ইঙ্গিতপূর্ণ। দুর্গাপুরের ঘটনার তদন্তের জন্য বাংলায় ওড়িশা পুলিশ আসতে পারে।
এদিকে বঙ্গ বিজেপিও দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ড নিয়ে অতি সক্রিয়তা দেখাতে শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিও করেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই কর্মসূচি থেকেই তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিরোধী দলনেতাকে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। যাতে সবটা ধরা পড়ে যায় সেই ভয়ে। বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীকে লেডি কিম বলেও কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। বিরোধী দল বিজেপির দাবি, মূল অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী।












Discussion about this post