আতঙ্কে শহর। রাতভর মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে জলমঙ্গ শহর থেকে শহরতলি। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির সাক্ষী থাকল কলকাতা। পুজোর আগে এমন ভয়ঙ্কর দুর্যোগ ও জলযন্ত্রনায় কার্যত লন্ডভন্ড অবস্থা। গলি থেকে রাজপথে বইছে জলস্রোত। জলের তলায় একাধিক পুজো মণ্ডপ। কোথাও কোমর সমান জল আবার কোথাও বুক-জল। দিকে দিকে আটকে গাড়ি। বহু হাসপাতালে জল ঢুকে বেহাল অবস্থা। বহু জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে জলে পড়েছে। বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু জনের। উৎসবের শহরে জলমগ্ন কলকাতায় পথে পথে মৃত্যুফাঁদ। এমন দুর্যোগ সুদৃর অতীতেও দেখেনি শহর। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে কড়া নজরদারি চালিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, বিপর্যয় মোকাবিলা সচিব রাজেশ সিনহা ও কৃষিসচিব ওঙ্কার সিং মিনা। KMC র তরফেও জারি করা হয়েছিল হাই এলার্ট।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে দায় এড়ানোর রাজনীতি। এঅবস্থায় ক্ষোভ উগরেছেন মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই পরিমান বৃষ্টির কোনো আগাম পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে এত মানুষের মৃত্যুতে তিনি সরাসরি বিদ্যুৎ পরিষেবা সংস্থা CESC কে দায়ী করে CESC র কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে দ্রুত ব্যবস্থা দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বারবার বিদ্যুতের লাইন ঠিক করতে বলা হলেও CESC তাতে কর্ণপাত করেনি। যথাযথ দায়িত্ব না নেওয়াই এই প্রাণহানির মূল কারণ। মুখমন্ত্রী আরও বলেন, CESC র তরফে মৃতদের পরিবারকে চাকরি ও ক্ষতিপূরণ বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা দেয়া উচিত।
ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে CESC র এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অভিজিৎ ঘোষ বলেন, বৃদ্যুৎষ্পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে তাদের নিজেদের বাড়ি অথবা কারখানার ওয়ারিং খারাপ থাকার কারণে। বাকি দুটি দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটেছে স্ট্রিট লাইট পোস্ট ছোয়ার কারণে। যা CESC র অধীনে নেই। ওপর একটি ট্রাফিক সিগনালের কিয়স্ক স্পর্শ করায়। স্ট্রিট লাইটপোল, ট্রাফিক লাইটগুলি আমাদের মালিকাধীন নয়। আমরা সেইগুলি রক্ষনাবেক্ষন করিনা। বিস্তিন্ন্ এলাকা জলমগ্ন থাকায় সেইখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post