জ্যোতি বসু এই মানুষটার নাম সকলেরই জানা। ১৯৭৭ থেকে ২০০০ টানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০০ সালে জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। জ্যোতি বসুর জামানা চলে গেলে শুরু হয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জামানা। অন্যদিকে এ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাড়ির পুজোয় ব্যস্ত ঠিক সেই সময় তার দলের অর্থ্যাৎ তৃণমূলের মুখপাত্র ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ভবিষৎবাণী করলেন। কুনাল ঘোষ তার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতি বসুর মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ড ভেঙে দেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০৩৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। চতুর্থ মা – মাটি – মানুষের সরকার হবে। বামফ্রন্ট নেতা জ্যোতি বসুর রেকর্ড ভাঙার পরেও তিনিই আরও অনেক বছর রাজত্ব করবেন।
এই বক্তব্যের পরেই তিনি ২০৩৬ শের পর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান কে হবে সেই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর এক ভবিষৎবাণী করে বলেন, মমতার উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বও সেই সময়ের আগে বা পরে তার আশীর্বাদে শুরু হবে। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ভিত্তিহীন নাট্যকার বিরোধী দল এবং কিছু ঈর্ষান্বিত, হতাশাগ্রস্ত্র, হতাশ নাগরিকদের বলা যাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী তিনিই। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে গল্প ভিন্ন। তিনি আরও যোগ করেন, বিরোধী দল সোশ্যাল মিডিয়া, মিডিয়াতে থাকুক। তৃণমূল নবান্নে সুন্দর। এই গোটা প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের বছরে পর বছর গভীর অবসাদ নিয়ে কুৎসা করা ছাড়া আর কোনও কাজ থাকবে না।
কুনাল ঘোষের এই মন্তব্য ও ভবিষ্যৎবাণীতে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তৃণমূলের কারুর কারুর মতে, কুনাল ঘোষের বক্তব্য দলের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তবে তৃণমূলের ভিতরে কুনাল ঘোষের এই পোস্ট উৎসাহ ছড়ালেও সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে বিরোধী দলগুলির মধ্যে। বিরোধী শিবির গুলি এই মন্তব্যকে অবাস্তব কল্পনা হিসেবে দেখছেন। বিজেপি নেতারা মন্তব্য করেছেন, তৃণমূল এখন রাজনীতি ছেড়ে ভবিষৎবাণীর অনুশীলন করছে। জনসমর্থন হারিয়ে ফেসবুকে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে সিপিআইএম নেতারা এটিকে তৃণমূলের আত্মতৃপ্তির বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কেউ এইভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদের মেয়াদ নির্ধারিত করতে পারে না।
তৃণমূল সমর্থকরা এটিকে দলের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখলেও বিরোধী দলগুলি এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক অহংকার এবং দিবাস্বপ্ন হিসেবে দেখছেন। এখন রাজনীতির ময়দানে কে কতদূর এগোবে তা দেখার।












Discussion about this post