গলার বদলা গলা, বিজেপির জাতীয়তাবাদী নেতা তথা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবার মুহাম্মদ ইউনূসের চিকেন নেক ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্যের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন। বললেন, আমাদের একটা চিকেন নেক আছে, কিন্তু বাংলাদেশের আছে দুটি। ফলে ভারতও চুপ করে বসে থাকবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের চিকেন নেক নামে খ্যাত শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে চলেছেন। গত মার্চে তিনি প্রথমে চিনে গিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে ল্যান্ডলকড বলে অভিহিত করেন। চিনকে বাংলাদেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন বাংলাদেশ একমাত্র সমুদ্রের অভিভাবক। মুহাম্মদ ইউনূস এখানেই থেমে থাকেননি। সম্প্রতি নেপালের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এবং চট্টগ্রাম বন্দরে এক অনুষ্ঠানে গিয়েও সেভেন সিস্টার্সের আর্থিক উন্নয়ন এবং স্থলবেষ্টিত অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করেন। এবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে পাল্টা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। যিনি উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বলেই পরিচিত। বুধবার অসমের পুলিশ অ্যাকাডেমির এক অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে নাম না নিয়েই মুহাম্মদ ইউনূসকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন। তাঁর কথায় উঠে এল গলার বদলা গলা। এবং বাংলাদেশকে স্মরণ করিয়ে দিলেন ভারতীয় সেনার শক্তি এবং সাহসিকতার কথাও। এদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের চিকেন নেক ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার হুমকির প্রসঙ্গ নিয়ে। যার উত্তরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি চিকেন নেক আছে। কিন্তু বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেক আছে। যদি বাংলাদেশ আমাদের চিকেন নেকে আক্রমণ করে, তাহলে আমরা বাংলাদেশের সেই দুটি চিকেন নেকে আক্রমণ করব।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রামের দুটি এলাকাও যথেষ্ট সংকীর্ণ। যা কেটে দিলে ওই দুটি এলাকা বাংলাদেশ থেকে নিমেষে আলাদা হয়ে যাবে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ দাবি করে চলেছেন ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেককে বড় এবং চওড়া করার সময় এসেছে। এতেই ওই অঞ্চলে ক্রমাগত হুমকি ঠেকানো যাবে এবং চিরস্থায়ী সমস্যার সমাধান করা যাবে। উল্লেথ্য, চিকেন’স নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর বলতে বোঝায় সরু, ঝুঁকিপূর্ণ ভূমির একটি অংশ, যা প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া। এই অংশটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্য এবং সিকিমকে সংযুক্ত করে। ফলে সামরিক এবং কৌশলগত কারণে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক অতি গুরুত্বপূর্ণ। এহেন চিকেন’স নেক করিডোর থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটারের কম দূরে অবস্থিত লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে বাংলাদেশ। আর এই বিষয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করছে চিন ও পাকিস্তান, এমনটাই গোয়েন্দা সূত্রে খবর। এমন সময় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেকের প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দেওয়া যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
যদিও তিনি শুধু হুমকি দিয়ে ক্ষান্ত থাকেননি। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশকে অপারেশন সিঁদুরে ভারতের সেনাবাহিনীর পরাক্রম এবং শক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ভারত আক্রমণ করার আগে “বাংলাদেশকে ১৪ বার পুনর্জন্ম নিতে হবে”।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী যেমন উল্লেখ করেছেন, একটি সরু করিডোর বাংলাদেশের প্রধান ভূমিকে তার বৃহত্তম বন্দর শহর চট্টগ্রাম থেকে সংযুক্ত করে। ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম থেকে বাংলাদেশের মিরসরাই উপজেলা, যা চট্টগ্রামকে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করে, এই করিডোরটি চওড়ায় মাত্র ৩০ কিলোমিটার। এই সংকীর্ণ করিডোরটি বন্ধ করে দেওয়া হলে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ ভূমি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এটি চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে দেবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি রফতানি-আমদানি বাণিজ্য পরিচালনা করে। আর বাংলাদেশের দ্বিতীয় চিকেন’স নেকটি রংপুর বিভাগের দক্ষিণে অবস্থিত করিডোর বলে মনে করা হচ্ছে, যা মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের মাঝে অবস্থিত। এই অংশটি মাত্র ৯০ কিলোমিটার চওড়া।












Discussion about this post