চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারির পর প্রায় দুসপ্তাহ অতিক্রান্ত! উত্তরোত্তর অশান্তি বাড়ছে বাংলাদেশে। বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপও। নয়াদিল্লি, ব্রিটেন, আমেরিকা একযোগে সরব সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে। সব মিলিয়ে চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে প্রবল চাপে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। চাপের মুখে চিন্ময় মুক্তি নিয়ে সুর কিছুটা নরম করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউনুস প্রশাসন। এমনটাই ইঙ্গিত। কিন্তু সমস্যা হল জামাত, হেফাজতের মতো মৌলবাদী সংগঠনের কাছে ইউনুস সরকারের হাত-পা এমনভাবে বাঁধা, যে তাদের ইঙ্গিত ছাড়া ইচ্ছা থাকলেও চিন্ময়কে ছাড়তে পারছে না ইউনুস সরকার। এদিকে এই আবহেই ভারতের মাটি থেকে আমেরিকায় আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতা করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দুষেছেন তিনি। নিউ ইয়র্কের ওই সভায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, ধর্মস্থান এবং ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের উপর হামলারও নিন্দা করেছেন হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘আজ আমার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুহাম্মদ ইউনূসই ছাত্র সমন্বয়কদের নিয়ে একটি সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে গণহত্যায় লিপ্ত হয়েছেন। তাঁরাই মাস্টারমাইন্ড। এমনকি, তারেক রহমান লন্ডন থেকে বলেছেন যে, যদি মৃত্যু চলতেই থাকে, তা হলে সরকার টিকে থাকবে না।’’ গত মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পরেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মুজিবুর রহমানের কন্যা। মঙ্গলবার কার্যত ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চলছে। কেন আক্রান্ত হচ্ছে মন্দির, গির্জা?’’ সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে ঢাকা ছেড়ে দিল্লি যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন হাসিনা, তিনি বলেন, ‘‘আমি গণহত্যা চাইনি। আমি যদি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে চাইতাম, তা হলে গণহত্যা হত। যখন নির্বিচারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমার চলে যাওয়া উচিত। আমাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা তা ঠেকাতে যদি গুলি চালাতেন তবে গণভবনে বহু মানুষের মৃত্যু হত। আমি তা চাইনি।’’ একথায় বলা যায়, শাসন করার নামে উল্টে বাংলাদেশকে ধ্বংসলীলা পরিণত করছেন ইউনূসের সংগঠন। আর এবার তাঁরই হুঙ্কার হাসিনা। বলা বাহুল্য, হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের টালমাটাল অবস্থা। অন্যদিকে সম্প্রতি ইউনূস সরকার গ্রেফতার করেছে হিন্দু গুরু চিন্ময় মহাপ্রভুকে। আর তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ নয়া দিল্লি। শুধু তাই নয় ওপার বাংলায় হিন্দুদের ওপর চলা হিংসার ঘটনা পথে নেমেছে এপার বাংলার মানুষ। আর তখনই ভারতকে চাপে ফেলতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউনূস সরকার। উল্লেখ্য, গণ আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে ভারত। একই অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় গণমাধ্যম। সম্প্রতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের বর্হিস্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশে উত্তেজনা চরমে পৌছেছে। এবার এই উত্তেজনায় ঘি ঢাললেন শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post