পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নজরুল মঞ্চে নদিয়া, দুই ২৪ পরগণা এবং মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে শতাধিক ব্লকের বিএলও-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল বলছে এটা ষড়ষন্ত্র। কলকাতার মেয়র দাবি করছেন, রাজ্যে কোথাও রোহিঙ্গা নেই, কোথাও কেউ দেখাতে পারবে না। অথচ এই রাজ্যের পুলিশই বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জাল আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরির হদিস পেল।
শনিবার থেকে কলকাতার নজরুল মঞ্চে শুরু হয়েছে নদিয়া, দুই ২৪ পরগণা এবং মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে শতাধিক ব্লকের বিএলও-দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ। এই বিশেষ প্রশিক্ষণের অর্থ হল এবার পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন শুরু হবে। আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, যে চার জেলার বুথ লেভেল অফিসারদের প্রথমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেই জেলাগুলি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী। রাজ্যের নির্বাচনি আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধাপে ধাপে বাকি জেলার বিএলও-দেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যা নিয়ে রাজ্যের শাসকদল প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন অন্য রাজ্যে যেভাবে বিজেপির হয়ে কাজ করছে, এ রাজ্যে সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু মুখে এ কথা বলেও পশ্চিমবঙ্গে বিহারের মতোই ‘বিশেষ অভিযানের’ আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলার শাসক দল। মজার বিষয় হল যে এই রাজ্যে আলাদা করে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন হতে চলেছে, তেমন কোনও ঘোষণা সরকারিভাবে করেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাঁদের দাবি, সারা ভারতেই এই কাজ হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, এখনও এসআইআর নিয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি।
রাজ্যে যখন নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন শাসকদল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যেমন দাবি করেছেন, একটাও রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলমানদের নাম বাংলার ভোটার লিস্টে থাকবে না। বাংলায় এসআইআর হলে ১ কোটি ২৫ লক্ষ বংলাদেশি মুসলমান আর রোহিঙ্গা বাদ যাবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশিকায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এটার প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেব।
অন্যদিকে, কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিরোধী দলনেতাকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা দাবি করেছেন, এই রাজ্যে একটাও রোহিঙ্গা নেই, কোথাও কেউ দেখাতে পারবেন না।
এই রাজ্য দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব বিজেপি। অপরদিকে দেশজুড়ে বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যান্য রাজ্যগুলির দাবি, অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিহ্নিত করে আটক করার পর দেখা যাচ্ছে তাঁদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে জাল ভোটার কার্ড, আধার কার়্ড, প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র রয়েছে। এই পরিচয়পত্র কে বা কারা ইস্যু করল, কিভাবে ইস্যু করল তা নিয়ে চলছে তরজা। এই আবহেই বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জাল ভোটার, আধার কার্ড এবং জাল কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরির হদিস পেল খোদ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের জন্য তৈরি হতো জাল পরিচয়পত্র তৈরি হতো বলে মনে করছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার অন্তর্গত চোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। রঘুনাথগঞ্জের জোরাগাছা এলাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান এবং লালগোলার চোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহিন আক্তার। এইসব নথিপত্র তৈরীর সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়।। ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে শনিবার আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানান ভগবানগোলার এসডিপিও।
বাইট – এসডিপিও ভগবানগোলা
ফলে বিজেপির দাবি যে অসত্য নয় এটা এই ঘটনা থেকেই প্রমানিত হচ্ছে। বাংলার রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত বাম জমানা থেকেই এই রাজ্যে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ চলছে। তবে তৃণমূলের আমলে বেআইনি অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি এই রাজ্যে পঞ্চায়েত প্রধানও হয়ে বসেছেন, আবার কেউ তৃণমূলের ছাত্র নেতা হিসেবে কলেজের জিএস হয়েছেন। ফলে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন হলে এরকম বহু নাম সামনে চলে আসবে, তাতে মুখ পুড়বে শাসকদলের। তাই এত গাত্রদাহ, মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post