রেফারিদের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যায় বলে মন্তব্য করতেন আগের ইস্টবেঙ্গল কোচ কুয়াদ্রত। কোচ বদলের পরও রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচের মন্তব্য বদল হল না। কারণ রেফারিদের সিদ্ধান্ত বারবার ইস্টবেঙ্গলকে বিপদে ফেলেছে। সেকারণে জয়ের হ্যাটট্রিক হল না ইস্টবেঙ্গলের। উল্টে হারতে হল ঘরের মাঠে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ থেকে ইস্টবেঙ্গলের অপরাজিত থাকার যে দৌড় শুরু হয়েছিল তা থামল ওড়িশা। ২২ অক্টোবর আইএসএলে শেষ বার এই ওড়িশার কাছেই হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একই প্রতিপক্ষের কাছে হারল ১-২ গোলে। গোটা দ্বিতীয়ার্ধ ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে হয়েছে দশ জনে। তার মধ্যেই লালচুংনুঙ্গার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে জেরি এবং হুগো বুমোসের গোলে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে ওড়িশা। হেরে আইএসএলে ১১ নম্বরেই থেকে গেল ইস্টবেঙ্গল। ওড়িশা উঠে এল তিন নম্বর স্থানে।। রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের জন্য গত মরসুমে বার বার রেফারিদের বিরুদ্ধে সরব হতেন ইস্টবেঙ্গলের তৎকালীন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তার জন্য নির্বাসিতও হতে হয়েছিল তাঁকে। এই মরসুমেও ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্য বদলাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার তারা আবার রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে পয়েন্ট খুইয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে আসার পর প্রথম বার রেফারিং নিয়ে সরব হলেন অস্কার ব্রুজ়ো। তিনি জানালেন, রেফারিরা হয়তো ইস্টবেঙ্গলকে প্রতিষ্ঠিত দল হিসাবে দেখেই না তাই এই রকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।বৃহস্পতিবার ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছু ক্ষণ আগে দিয়েগো মৌরিসিয়োর সঙ্গে সংঘর্ষে লাল কার্ড দেখেন জিকসন সিংহ। সেই সংঘর্ষ খুব গুরুতর না হলেও রেফারি তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বার করে দেন। ফলে মাঝমাঠের একজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হারায় ইস্টবেঙ্গল।ম্যাচের পর ব্রুজ়ো বলেছেন, ‘রেফারিরা সম্ভবত আমাদের ছোট দল হিসাবে দেখছেন। আমাদের ফুটবলারকে মাঠের বাইরে বার করে দেওয়া খুব সহজ। আমাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেওয়া খুব সহজ। কিন্তু আমাদের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে না। একজন ফুটবলারের পায়ে যখন বলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তখন কনুই লাগলে কোনও মতেই লাল কার্ড দেওয়া যায় না। দুটো ম্যাচ আগেও দেখেছিলাম নন্দকুমারের ক্ষেত্রে একই জিনিস করা হয়েছিল। এই ম্যাচেও তাই হল।রেফারিদের উচিৎ খেলোয়াড়দের অভিনয় সমন্ধ্যে অবগত হওয়ার । রেফারিরা খুব ভাল করে জানেন কোন ফুটবলার কেন অভিনয় করে। কিছুক্ষণ আগেও যে মাঠে শুয়ে কাতরাচ্ছিল, জিকসনের লাল কার্ডের পরে সে উঠে দাঁড়াল এবং পরে ওড়িশার একটা গোলের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিল। রেফারির সিদ্ধান্তই আজকের ম্যাচের ক্ষেত্রে পার্থক্য করে দিল।’এখানেই না থেমে ব্রুজ়ো আরও বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর ভারতে কোচিং করাইনি। পাঁচ-ছ’বছর পর কোচিং করাতে এসেছি। আমার মনে হয় ফুটবলারদের সম্পর্কে রেফারিদের আরও একটু জ্ঞান থাকা দরকার। আমার মতে, ওটা কোনও ভাবেই লাল কার্ড ছিল না। ফুটবল শারীরিক খেলা। একটু-আধটু সংঘর্ষ হতেই পারে। তবে রেফারিরা মনে হয় চান না ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা কারও সঙ্গে বল কাড়াকাড়ি করুক।’ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব্ধ। তারাও কোচের মত, হারের জন্য খারাপ রেফারিংকে দুষছে। কারণ ম্যাচে হারলেও ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু মানসিকতা নজর এড়ায়নি সমর্থকদের। মহমেডানের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে দু’টি লাল কার্ড দেখে বাধ্য হয়ে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে ওড়িশার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে জিকসনকে খুইয়েও আগ্রাসনের রাস্তা থেকে সরে আসেনি লাল-হলুদ। প্রথম থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত বিপক্ষের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা। ভাগ্য সঙ্গ দিলে গোলও করতে পারতেন। তবে ফাইনাল থার্ডে গিয়ে নিজেদের কাজটা করতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। পাশাপাশি ফলের নেতৃত্বাধীন ওড়িশা রক্ষণে আরও পিছনে গিয়ে বক্সে পায়ের জঙ্গল করে ইস্টবেঙ্গলের যাবতীয় আক্রমণ আটকে দিচ্ছিল। প্রথমার্ধে ইসাকের নেওয়া দু’টি প্রয়াসের কথাই বলতে হবে। তাঁর একটি হেড এবং শট লাগে ক্রসবারে। না হলে প্রথমার্ধেই ইস্টবেঙ্গলের পিছিয়ে পড়ার কথা।
বৃহস্পতিবার ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত হয় পাঞ্জাব কিংস বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস এর ম্যাচ। কিন্তু হামলার আশঙ্কায় ম্যাচ শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রথম...
Read more












Discussion about this post