বোলপুর থানার আইসি-কে টেলিফোনে হুমকি ও গালিগালাজ দিয়ে অনু্ব্রত মণ্ডল ফের খবরের শিরোনামে। এ হেন অনুব্রত-সুলভ আচরণে নাকি ক্ষিপ্ত স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী। তাই তড়িঘড়ি ক্ষমা চাইতে বলা হয় বীরভূমের দাপুটে নেতাকে। পুলিশও কড়া কড়া ধারায় মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু দুবার তলবের পর, শেষ পর্যন্ত একবারও হাজিরা দেননি অনুব্রত মণ্ডল। আর অুসস্থ কেষ্টকেও আর ঘাঁটায়নি পুলিশ। বরং নতুন নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে বীরভূমে।
কুকথা কাণ্ডের ছয়দিন পার, তবুও অধরা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে ধরা তো দূর, দুবার তলবের পরও হাজিরা দেননি বীরভূমের কেষ্ট। বলাই যায়, অনুব্রত-প্রশ্নে এখনও হাত গুটিয়ে বসে আছে দিদির পুলিশ! একটা সময় ছিল, যখন বীরভূমে কান পাতলেই শোনা যেত, ‘কেষ্ট সহায় যার, কিছুতেই ভয় নাই তার’। এখনও কি তাঁর সেই দাপট রয়েছে? না হলে খোদ বোলপুর থানার আইসি-কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ বা মা-স্ত্রীকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করার পরও পুলিশ কিচ্ছুটি করতে পারছে না। কেন? অনুব্রত মণ্ডল, তৃণমূল নেত্রী যাকে আদর করে কেষ্ট ডাকেন। সেই কেষ্টর বাণী, “ভয়ঙ্কর খেলা হবে” আজও তৃণমূল সমর্থকদের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু এবার বীরভূমে কান পাতলে অন্য একটি কথা শোনা যাচ্ছে। দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের রাশই নাকি আলগা হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। তিনি নাকি আজকাল আর খেলা ঘোরাতে পারছেন না। বরং তাঁকেই পিছনের সারিতে ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছেন একদা তাঁর অধস্তন এবং এখনকার দাপুটে নেতা কাজল শেখ। জানা যাচ্ছে, অনুব্রত অনুগামীরাই এখন ভিড় করছেন কাজলের আশেপাশে। তবে অনুব্রত প্রশ্নে পুলিশের এমন বৈরাগ্য প্রশ্নটা কিন্তু জিইয়ে রাখছেই। আদৌ কি জখম হয়েছেন বুড়ো বাঘ?
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এর আগে দু’বার পুলিশি হাজিরা এড়িয়েছেন কেষ্ট। পুলিশ সূত্র বলেছিল, পরপর তিনবার হাজিরা এড়ালে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। কিন্তু তৃতীয় নোটিশ কবে জারি হবে সেটাই এখন ধোঁয়াশা। জানা যাচ্ছে, থানায় অনুব্রত মণ্ডল যে ডাক্তারি সার্টিফিকেট জমা করেছেন, তাতে চিকিৎসকরা পাঁচ দিনের বেড রেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে সেই সময়সীমা পার করেই তৃতীয় হাজিরার নোটিশ ধরানো হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, অনুব্রতকে সার্টিফিকেট দেওয়া চিকিৎসককে নিয়েও। পুলিশ সূত্রে খবর, অনুব্রতের যে মেডিক্যাল রিপোর্ট তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটি শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের। ওই মেডিক্যাল রিপোর্টে সই রয়েছে হিটলার চৌধুরী নামে এক চিকিৎসকের। রামপুরহাট ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের নামও হিটলার চৌধুরী। এখানেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। সরকারি পদে থেকে তিনি কিভাবে প্রাইভেটে রোগী দেখেন এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করেন, সেটা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যাই হোক, পুলিশের মা-স্ত্রীকে নিয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেও অনুব্রত মণ্ডল অধরা, কিন্তু একই অপরাধে বুধবার সকালে সিউড়ি থানায় হাজিরা দিলেন কেষ্ট ঘনিষ্ট ছাত্র নেতা, টিএমসিপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ। প্রায় দু’ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশের কর্তারা। ঘটনাচক্রে দুজনের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু দুজনই প্রকাশ্যে রয়েছেন, কিন্তু কেউই গ্রেফতার হননি। যদিও অনুব্রত এখন ঘরবন্দি, দাবি করছেন তিনি সম্ভবত করোনা আক্রান্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগেও বহু ক্ষেত্রে কোনও বেচাল করে ফেঁসে গিয়ে অসুস্থতার ভান করেছেন অনুব্রত। এবারও তার অন্যথা হল না। কিন্তু এবার যদি তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ না করে, তাহলে পুলিশেরই নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতারা যেভাবে পুলিশকে আক্রমণ করছেন, সেই রেওয়াজ চলতে থাকলে একসময় পুলিশেই বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে। এর ওপর আগামী ৯ জুন বীরভূমে মিছিলের ডাক দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুব্রতর গ্রেফতারির দাবিতেই তাঁর কর্মসূচি। ফলে পুলিশের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এখন দেখার, ঘরে ও বাইরে প্রবল চাপে থাকা অনুব্রত মণ্ডল কি করেন। পুলিশই বা কি করে।












Discussion about this post