সরকারী উদ্যোগে গ্রামে কারখানা তৈরী হয়েছিল, হাতে ছিল কাজ, পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ছিল, কিন্তু এখন সে সব অতীত। কর্মব্যস্ত সুখের সেদিনের কথা ভাবলে এখনও চোখ ঝাপসা হয়ে আসে বিশ্বনাথ বাউরী, সোনালী বাউরীদের।
সালটা ছিল ২০১৫, মহাত্মা গান্ধি জাতীয় কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বাঁকুড়া-১ ব্লকের কেঞ্জাকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পচিরডাঙ্গায় প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর বছরে ৩০০ দিন কর্ম দিবসে ৩৬ লক্ষ ইঁট তৈরীর লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে গড়ে ওঠে ‘ফ্লাই অ্যাশ ব্রিকস্’ কারখানা। দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন স্থানীয় মানুষজন। তাদের মজুরি দেওয়া হতো ওই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প থেকে। সঙ্গে এখানে উৎপাদিত ইঁট বিক্রির পর যে লভ্যাংশ আসবে তার ৭৫ শতাংশ শ্রমিক সোসাইটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পর কর্মরত প্রত্যেকটি শ্রমিক পরিবার সমান ভাবে সেই টাকার ভাগ পাওয়ার কথা। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিলে জমা হওয়ার কথা। যেমন কথা তেমনই চলছিল, বিগত বেশ কয়েক বছর আগে থেকে রাজ্যে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ। সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁপ পড়লো পচিরডাঙ্গার ফ্লাই অ্যাশ ব্রিকস্’ কারখানাতেও। বিনা নোটিশে কর্মহীন হয়ে পড়লেন ৪০ জনেরও বেশী শ্রমিক।
দীর্ঘদিন এই কারখানায় কর্মরত, বর্তমানে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিশ্বনাথ বাউরী, জবকার্ডে কাজ করা সোনালী বাউরীরা বলেন, ২০১৫ সালে এই কারখানা শুরুর সময় থেকে কাজ করেছি, তিনটে শিফটে কাজ হতো। পুরুষ-মহিলা সবার কাজের সুযোগ ছিল। পাঁচ বছর সব ঠিক ঠাক চলার পর হঠাৎ সব বন্ধ হয়ে গেল, সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল তাদের আয়ের উৎস-ও। তার পিছনে রয়েছে এরাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ মত তাদের।
ঘটনায় প্রত্যাশিত ভাবেই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেত্রী তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়ের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের টাকা বন্ধ করাতেই ওই কারখানার আজ বন্ধ। এবার ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পেলে মানুষের স্বার্থে ফের কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার দাবি, জনগণের করের টাকায় কারখানার তৈরীর নামে কাটমানির টাকা শাসক দলের নেতাদের ঘরে ঢুকে গেছে, সেকারনেই কারখানাও বন্ধ। ‘২৬ এর নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে।












Discussion about this post