ফের কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে মুখ পুড়লো রাজ্য সরকারের। আদালতের রায়ে ২০১৬ এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিলের পর আদালতের নির্দেশে, নয়া পরীক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা টেন্টেড শিক্ষকেরা। কিন্তু রাজ্য সরকার ও তার আইনজীবী এই টেন্টেড শিক্ষকদের জন্যই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সরকারের এই দ্বিচারিতার শিকার আজকের শিক্ষক সমাজ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পরও কি তবে রাজ্যের চিত্রটা একটুও বদল হবেনা?
সুপ্রিম কোর্টের রায় ২০১৬ এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অর্থাৎ যারা যোগ্য শিক্ষক বলে চিহ্নিত হয়েছিল তাদের পাশে থেকে বিভিন্ন সময় ইতিবাচক বার্তা এবং তাদের চাকরি বাঁচানোর দায়িত্ব নেওয়ার মতো বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যতদিন এগিয়েছে রাজ্য সরকারের আসল চেহারা সামনে এসেছে শিক্ষক মহলের।
সরকারের তরফে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যোগ্য শিক্ষকদের, সেখান থেকে তারা মনে করেছিলেন সরকার হয়তো যোগ্য অযোগ্য চিহ্নিত করে যোগ্যদের চাকরি ফেরত দেওয়ার জন্য লড়াই চালাবে কিন্তু সরকারের নতুন লড়াই যেন অন্য কথা বলছে। কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট যে এসএসসি চুরি করেছে বলে দাবি জানিয়েছে সেই এসএসসি এর হাতে ফের নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ যে সরকারের নেতাদের দ্বারা শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হল যে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রীর দুর্নীতির দায়ে জেলে গেল এবার সেই সরকারের হাতে থাকা এসএসসি এর ওপরই ফের নিয়োগের দায়িত্ব দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট, আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা।
কলকাতা হাইকোর্টে সৌগত ভট্টাচাৰ্য এর এজলাসে নিয়োগ দুর্নীতিতে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের মামলার শুনানি শুরু হয়, আদালত জানায় কমিশন দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্ট এমন কোনও রায় দেয়নি যে চিহ্নিত অযোগ্যরা বয়সজনিত ছাড় পাবেন না, তাদেরকে নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যাবে এমন কিছুই জানানো হয়নি। কিন্তু বিচারপতির স্পষ্ট দাবি কমিশনের তরফ থেকে এই ব্যাখ্যা একেবারেই প্রত্যাশিত নয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্য এর এজলাসে এই বিষয়ে লড়তেও দেখা গেল সরকারপক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে। কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় এর তরফে দাবি জানানো হয়েছে, কেন অযোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হবেনা। এরকম কিছুই সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়নি।
কলকাতা হাই কোর্টে দাঁড়িয়ে অযোগ্য বলে চিহ্নিত শিক্ষকদের পক্ষে সরকারের আইনজীবীর এই লড়াই এর পরও শেষমেশ আদালতে মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারের। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে তারা এই নতুন নিয়োগের অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যারা ফর্ম ফিল আপ করেছে তাদের ফর্ম বাতিল হয়ে যাবে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যারা অযোগ্য অর্থাৎ টাকা দিয়ে নিয়োগের সঙ্গে জড়িত তারা আর নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবে না। কিন্তু রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আদালতে।
সরকারের তরফে এ ধরনের দাবির পর অনেকেই মনে করছেন যেহেতু এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা সেই কারণে সরকার এখন অযোগ্যদের বঞ্চিত করতে চাইছে না সরকার। অথচ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, নিযোগ প্রক্রিয়ায় তাদেরকেই জায়গা দেয়ার চেষ্টা করছে যারা সিবিআই ও এসএসসি তদন্তে চোর বলে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ যারা অযোগ্য শিক্ষক তাদেরকে ফের পরীক্ষার বছর জায়গা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার, সুপ্রিম কোর্টের রায় এর বিরুদ্ধে গিয়ে। তাদের হয়ে লড়তে হাইকোর্টে মামলা করছে রাজ্য সরকার এবং সরকারের হয়ে সেই মামলা লড়ছেন আইনজীবী কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়।











Discussion about this post