সম্প্রতি কলকাতার বুঁকে ঘটে গিয়েছে আরও একটি গণধর্ষণের ঘটনা। এই ঘটনায় ফের বিরোধীদের খোঁচা শাসক দলের নেতৃত্বদের। প্রতি মুহূর্তে বিরোধীদের নিশানায় পরে তারা এখন মেজাজও হারাচ্ছেন। তার উদাহরণস্বরূপ এবার কসবা ল কলেজে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনায় এক আজব তত্ত্ব খাড়া করলেন শাসক দলের সাংসদ কল্যান বন্দোপাধ্যায়।
২৫ জুন কসবা সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় বলেন এই ধরণের ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে আটকানো সম্ভব না, এ ধরনের ঘটনা আটকাতে গেলে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন, পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন হলে তবেই এই ধরনের ঘটনা ঠেকানো সম্ভব। এই ধরনের যুক্তি দিতেই দেখা যাচ্ছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের। আর এই যুক্তি দিতে গিয়েও সংবাদমাধ্যমের সামনে কথার খেই হারাতে হচ্ছে তাদের। একই ভাবে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিচলিত হয়ে সাংবাদিকদের উপর চোটে গিয়ে বলতে শোনা গেল বন্ধু যদি বন্ধুকে ধর্ষণ করে তবে পুলিশ প্রশাসন কি করবে? এবার শুনুন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আজব তত্ত্ব,,,
শুক্রবারের ঘটনার পরেই কল্যাণ মন্তব্য করেছিলেন, “যদি কোনও বন্ধু তাঁর বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা কী-ই বা করতে পারে?” তখন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত। দল এই মন্তব্যগুলিকে কোনওভাবেই সমর্থন করে না ।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কসবা গণধর্ষনের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, মেয়েটি ওখানে না গেলে এই ঘটনা ঘটত না। যদি যাওয়ার সময় কাউকে বলে যেত,দু জন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে যেত, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। যে ব্যক্তি এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, সে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তার এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কসবা ল কলেজে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের এক নেতার বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীকে গার্ডরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ছাত্রী নিজেও ছাত্র পরিষদের সদস্যা। নির্যাতিতার অভিযোগ, গার্ড রুমে গেলে তাঁর উপর চড়াও হন তিনজন। গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কাউকে কিছু না বলতে হুমকিও দেওয়া হয় তাকে। পরে ওই ছাত্রী কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেফতার করে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মনোজিৎ মিশ্র-সহ কলেজের দুই পড়ুয়া জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে। পরে গ্রেফতার করা হয় এক নিরাপত্তা রক্ষীকেও।












Discussion about this post