কলকাতার বুঁকে ঘটে গিয়েছে আরও এক গণধর্ষণের ঘটনা যা গোটা দেশে ফের নিন্দার ঝড় তুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই আইনি ছাত্রীকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। দিকে দিকে যখন এই ঘটনায় প্রতিবাদ চলছে, সঠিক তদন্তের দাবি উঠছে তখন সামনে এলো এই মামলার মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের আইনজীবী রাজু গাঙ্গুলি এক চাঞ্চল্যকর দাবি।
ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজিৎ এর আইনজীবি বিস্ফোরক এক মন্তব্য করে দাবি করলেন, তার মক্কেলকে ফাঁসানো হচ্ছে। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আইনজীবীর দাবি, মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্টে অভিযুক্ত মনোজিৎ এর শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন এর পাশাপাশি তার গলায় ‘লাভবাইট’-এর চিহ্নও মিলেছে। এই দাবিতে তার প্রশ্ন, যদি এটি ধর্ষণই হয়ে থাকে, তাহলে এই চিহ্নগুলো কোথা থেকে এল অভিযুক্তের শরীরে? আইনজীবীর এই দাবি রীতিমতো অবাক করেছিল উপস্থিত সকলকেই। তার সেই বিস্ফোরক দাবি প্রকাশ্যে আসতে আলোচনাও শুরু হয়েচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এবার শুনুন আইনজীবীর চমকে দেওয়া সেই দাবি,,,
নির্যাতিতার বয়ান এর সাথে পুলিশি তদন্তে যে রিপোর্ট উঠে এসেছে এবং সেখানে যে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে তা হুবহু মিলে যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত এর আইনজীবি তিনি নির্যাতিতার বিপক্ষে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন। আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর এই দাবি ও মামলার পরিস্থিতি এক ভয়ঙ্কর দিকে মোড় নিচ্ছে ,ঘটনাটি ঘটে ২৫শে জুন কলেজ ক্যাম্পাসের গার্ডরুমে, সেখানে গণধর্ষণের শিকার হতে হয় ওই ছাত্রীকে এমনটাই অভিযোগ। নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। মনোজিৎ মিশ্র একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে অনুশীলনকারী আইনজীবী। অন্য অভিযুক্তরা কলেজের সিনিয়র ছাত্র জৈব আহমেদ এবং প্রমিত মুখার্জি এবং একজন নিরাপত্তা রক্ষী। নির্যাতিতার মেডিকেল রিপোর্টে তার শরীরে আঁচড় এবং কামড়ের চিহ্নের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মনোজিৎ এর পক্ষের আইনজীবীর দাবি, বেশ কিছু বিষয় ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তোলে, কিন্তু সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গণধর্ষণে সকল সহযোগী দোষী বলে বিবেচিত, যদি তারা সরাসরি অপরাধে যুক্ত নাও থাকে। পুলিশের তরফে দাবি, অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়েছিল। ফলে অভিযুক্ত দের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যে ঘটে যাওয়া একের পর এক নৃশংস ঘটনায় রাজ্য সরকারের অধীনে গোটা রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে।পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিজেপির অভিযোগ, অভিযুক্ত মনোজিৎ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত, যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এই ঘটনায় অপরাধী কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে।












Discussion about this post