দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে বিজেপি। এর আগে আর জি কর কাণ্ডের সময়ও প্রধান বিরোধী দলকে রাজপথে দেখা গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময় রাজ্যবাসী দেখেছিল অভূতপূর্ব এক অরাজনৈতিক আন্দোলনের। তাতেই এসেছিল জনজোয়ার। তাই এবার কি বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দলনেতা কসবাকাণ্ডে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পতাকা ছাড়া রাস্তায় নামার ডাক দিলেন?
দক্ষিণ কলকাতার কসবায় সরকারি আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে শনিবার কার্যত তুলকালাম বাধিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এমনকি তাঁকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে রাতভর লালবাজারে আটকে রেখেছিলেন বলেই অভিযোগ। রবিবার একই ইস্যুতে পথে নেমে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ, কসবার ঘটনাকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে রাজ্য বিজেপি রাজনৈতিক ইস্যু করতে কোনও পথ বাকি রাখছে না এটা স্পষ্ট। রবিবার বিজেপির যুব মোর্চার পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’-য় নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল গড়িয়া মোড় পর্যন্ত যায়। মশাল হাতে প্রতিবাদে সামিল হন বহু দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। এই মিছিলের পরই এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় বক্তৃতা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আমি অভয়ার বাড়িতে যাব, তাঁদের বলবো, গত বছর ২৭ আগস্ট ছাত্র সমাজ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। আপনারা এবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিন। আমরা পতাকা দূরে সরিয়ে রেখে ওই অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়বো।
প্রসঙ্গত, গত বছর কলকাতার নামি মেডিকেল কলেজ আর জি করে এক কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। যা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা ভারতবর্ষ। এমনকি এই ঘটনায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। আর জি করের ওই নির্যাতিতার পরিবার এখনও আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক মহলের একটা বড় অংশও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অরাজনৈতিক মহলেও আর জি কর নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে প্রতিনিয়ত। যা রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে অস্বস্তিকর। এই আবহেই সম্প্রতি ঘটে গেল আরেকটি ঘটনা। কসবা আইন কলেজের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল সেই কলেজেরই প্রাক্তন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। কলেজ ক্যাম্পাসেই ঘটে যাওয়া সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সকলেই শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতা ও কর্মী। ফলে আর জি করের মতোই আরেকটি সরকারি ক্যাম্পাসে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যা নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে কোনও মতেই হাতছাড়া করতে নারাজ বঙ্গ বিজেপি। এখন দেখার তাঁরা কতটা সফল হয়।
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘কলকাতা পুলিশকে যুব মোর্চা ২ তারিখের কর্মসূচির কথা জানিয়ে দিয়েছে। মায়েরা ঝাঁটা নিয়ে আসবেন। তৃণমূলের কত ক্ষমতা দেখতে চাই। হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। আমরা এর শেষ দেখতে চাই। এ লড়াই জারি রাখতে হবে।’ আসলে রাজ্যে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনা নিয়েই তীব্র আন্দোলনের পথে বঙ্গ বিজেপি। তাই আন্দোলনের রাশ নিজেদের হাতে রেখেও তিনি চাইছেন, দলীয় পতাকা সরিয়ে রেখে সমান্তরাল একটি আন্দোলন চলুক শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর সেই কারণেই আর জি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারকে তাঁর আহ্বান আগামী ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের জন্য। যাতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং শাসকদলকেও চাপে রাখা যায়।












Discussion about this post