সুপ্রিমকোর্টের রায়ে চাকরি বাতিল ২৬০০০ শিক্ষকের। এই রায়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এলো যারা চাকরি করছিলেন তাদের মধ্যে যোগ্য শিক্ষকদের। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তি তারা চুটিয়ে রাজনীতি করছেন। এই মুহূর্তে গাড়ি একটি প্রশ্ন খুবই প্রাসঙ্গিক, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আজ চাকরিহারা বহু শিক্ষক, চারিদিকে হাহাকার, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সেই সমস্ত শিক্ষক ও তার পরিবার। তাহলে এই দায় কার? উঠছে প্রশ্ন।
পাখির চোখ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। শাসক থেকে বিরোধী শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। তবে ২৬ এর নির্বাচনের আগে ২৬০০০ চাকরি বাতিল বড় ধাক্কা নিয়ে এলো শাসক শিবিরে, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যে ঘটনাকে সুপ্রিম কোর্টে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বলে উল্লেখ করা হলো সেই দুর্নীতির দেয় কার রাজ্যের সরকারের নাকি এসএসসির? বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণার পর থেকে রাজ্য সরকার সরাসরি সমস্ত দায় চাপানোর চেষ্টা করছে এসএসসির ওপর। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, এসএসসি অটোনোমাস বডি। এবং সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে তিন মাসের মধ্যে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে সেটাও রাজ্য সরকার তরফ থেকে করা হবে। অন্যদিকে এসএসসি বলছে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে এসএসসি তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এত কম সময়ের মধ্যে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কখনোই সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে রাজ্যের তরফ থেকেও দ্রুত নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে। কিভাবে এবং সবটা কতটা দ্রুত সম্পন্ন করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। আইনি পরামর্শ নিচ্ছে এসএসসি। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।
উল্লেখ্য এ দিন এসএসসি মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ফলে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে পরবর্তী নতুন প্রক্রিয়ায় তারা যদি উত্তীর্ণ না হতে পারেন তবে তারা এতদিন যা বেতন পেয়েছেন তা ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।
গতবছর এপ্রিলে দেওয়া হাইকোর্টের রায় কে চ্যালেঞ্জ করে আলাদাভাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে, রাজ্য শিক্ষা দপ্তর, এসএসসি ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শেষমেষ সুপ্রিম কোর্টের দারুক্ত হয়েছিলেন চাকরি হারারাও। তবে প্রাথমিক শুনানির পরে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এরপর চলতি বছর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের রায় চাকরি বাতিল হল ২৬ হাজার শিক্ষকের। সেই দায় কি কোন ভাবেই রাজ্য সরকার এড়াতে পারবে? নাকি সাধারণ মানুষ ভোট ব্যাংকেই তার উত্তর দেবে? প্রশ্ন রাজনৈতিক কারবারিদের।
Discussion about this post