পশ্চিমবঙ্গে চাকরি এবং দুর্নীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। আর সেটার প্রমাণ আরও একবার মিলল। গোটা শিক্ষা দফতরের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারীরা যখন জেলে, তখন আইনের মারপ্যাঁচে চাকরি হারালেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী এবং অশিক্ষক কর্মচারী। অযোগ্যদের শাস্তি দিতে গিয়ে যোগ্যরাও পেলেন না নিস্তার! এ কেমন বিচার! আসলে সেই কবে রবী ঠাকুর বলে গিয়েছিলেন, বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে।
কেউ অঝোরে চোখের জল ফেলছেন, কেউ গোটা পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন, সেটার কূল খুঁজছেন, আবার কেউ আঙুল তুলছেন গোটা শিক্ষা পরিকাঠামোর দিকে, আবার কেউ বলছেন, এর দায় বোধ হয় আমাদেরই। দায়, দায়িত্ব কে নেবে! আসলে তালে গোলে সবটাই হারিয়ে ফেললেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে চাকরি পাওয়া ওই ছেলে মেয়েগুলো।
২০১৬ সালে SSC এর পুরো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করল। একমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল থাকল। কলকাতা হাইকোর্টের গতবছরের রায়দান বহাল রেখে দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। যা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। এদিকে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিরোধীরা। পাল্টা সুর চড়াচ্ছে শাসকও। শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতির তদন্তে একের পর এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলী। তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময় ঢাক সহ ঢাকি বিসর্জনের কথা বলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর কি বলেছিলেন তিনি…শুনুন
অন্যদিকে একাধিক মঞ্চ থেকে তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলীকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সে সময় কি বলেছিলেন..শুনুন
বর্তমানে সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি বাতিলের পর এই রাজনীতির খেলাটা আরও বড় হয়েছে। মাঝখান থেকে, দোষ পাল্টা দোষে চাপা পড়ল যোগ্যদের পরিশ্রম।
Discussion about this post