একদিনে বঙ্গোপসাগর। একদিকে ভারত মহাসাগর। আর এক দিকে আরবসাগর। ভারতের তিনদিকই সমুদ্রে ঘেরা। জলসীমা থাকলে তা যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। তেমনই দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনদিক সমুদ্র দিয়ে ঘেরা এবং প্রতিকূল পড়শি দেশ। সব মিলিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের উন্নতি এবং সুরক্ষার জন্য নৌবাহিনীর অবদান এবং তাদের গুরুত্বকে স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর ৪ ডিসেম্বর পালিত হয় ভারতীয় নৌবাহিনী দিবস। স্বাধীনতার পর থেকে বেশ কিছু যুদ্ধ লড়তে হয়েছে ভারতকে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। সেই সময়ে অপারেশন ত্রিশূল শুরু করা হয়েছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে। সেই যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর। চারটি পাক নৌযানকে ধ্বংস করেছিল তারা। সেই সাফল্যকেও স্মরণ করা হয় এই দিনে। দেশের সুরক্ষার জন্য যে সকল নৌসেনা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদেরও স্মরণ করা হয় নৌবাহিনী দিবসে। প্রসঙ্গত, ঘটনার শুরু ১৯৭১-এর ৩ ডিসেম্বর। সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় এয়ার ফিল্ডে আচমকা আক্রমণ করেছিল পাকিস্তান। আর এর জেরেই দুই পড়শি দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পরের দিনই পালটা আক্রমণ হানে ভারতীয় নৌসেনা। শুরু হয় ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’। ৪টি পাক জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায় নৌসেনার এই হামলায়। করাচি বন্দরের কাছেই পাক ফুয়েল-ফিল্ড ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। INS নিপাত, INS নির্ঘাত এবং INS বীর-এর নিশানায় পড়ে ৫০০ পাক নৌসেনার মৃত্যু হয়েছিল। আক্রমণের দিন গুজরাটের ওখা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ভারতীয় নৌসেনা। দক্ষিণ করাচি থেকে প্রায় ৭০ ন্যটিক্যাল মাইলে পৌঁছে প্রথম পাক জাহাজের সম্মুখীন হয়েছিল ভারতীয় নৌজাহাজগুলি। এরপরই শুরু হয়েছিল একে অপরকে হামলা। গোটা হানায় মোট ৬টি মিসাইল ছুড়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই দেশে ফিরে এসেছিল ভারতীয় নৌসেনার জাহাজগুলি। ৯০ মিনিটের এই অপারেশনে নৌসেনার কোনও ক্ষতি হয়নি। তারপর থেকে এই দিনটিকে নৌ সেনা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এমনকি এই যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ ব্যক্তিদেরও এদিন স্মরণ করা হয়। ঠিক তেমনই আজ বুধবার পুরীর সমুদ্র সৈকতে ভারতীয় সেনারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করলেন। পুরীর আকাশে ভেসে উঠলো ভারতীয় সেনাদের মহড়া। পুরীর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বিনীত আগরওয়াল শনিবার বলেছিলেন যে নৌবাহিনী দিবস উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি এবং মহড়া করা হচ্ছে। তিনি জানান, “ইভেন্টের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে… আমি রাজ্যের সমস্ত লোককে প্রশাসন এবং পুলিশ দলকে সমর্থন করার জন্য আবেদন করছি,” শনিবার, ভারতীয় নৌবাহিনী নৌবাহিনী দিবস উদযাপনের অংশ হিসাবে ওড়িশার পুরীর উপকূলে একটি ‘অপারেশনাল ডেমোনস্ট্রেশন’ পরিচালনা করতে প্রস্তুত। ভারতীয় নৌবাহিনীর রিলিজ অনুসারে, “নৌবাহিনী দিবস ২০২৪-এর একটি উদযাপনে, ভারতীয় নৌবাহিনী পুরী, ওড়িশার উপকূলে একটি ভারতীয় সেনাদের শক্তি প্রদর্শন করবে, যা তার নৌ বহরের শক্তি এবং বহুমুখিতাও দেখাবে৷ এই ইভেন্টটি শুধুমাত্র ভারতের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয় বরং সাধারণ জনগণের জন্য নৌ-অভিযানের বিশ্বকে প্রত্যক্ষ করার একটি সুযোগ, যা প্রায়ই জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লুকিয়ে থাকে।” প্রদর্শনীটি ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি এবং বহুমুখিতা প্রদর্শন করবে, দর্শকদের ভারতের সামুদ্রিক বাহিনীর অপারেশনাল ক্ষমতার একটি বিরল আভাস দেবে। জাহাজ কৌশল, মক উদ্ধার এবং নৌ হেলিকপ্টার, ফাইটার জেট এবং টহল বিমান দ্বারা গতিশীল প্রদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল আজ। তবে আজকের পুরীর সৈকতে এই মহড়া কে অন্যভাবে দেখছে কূটনৈতিক মহল। কারণটা খুব পরিষ্কার। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। মনে করা হচ্ছে যখন তখন যুদ্ধ ঘোষণা হতে পারে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এরও কথা উঠে আসছে। আবার বাংলাদেশের মাটির নিচেই রয়েছে মিসাইল সিটি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে তৎপর বাংলাদেশ। এমতাবস্তায় ভারতীয় সেনাদের এই মহড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে একাংশ। কারণ বাংলাদেশের যে মিসাইল সিটির কথা উঠে আসছে তাতে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন চিন ও তুরস্ক থেকে কেনা মিসাইলগুলি সর্বাধিক ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সীমান্ত লাগোয়া কোনো এলাকা থেকে বাংলাদেশি মিসাইলের পাল্লায় কলকাতা, আগরতলার মতো শহর থাকছে। বাংলাদেশ সীমান্তের ভারতীয় রাজ্যগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম। আর মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ। সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের বাহিনী মজুত থাকে। বাংলাদেশকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিচিত। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সেদেশের সামরিক বাহিনীতে মানববিহীন ড্রোন সহ অন্তত ২৩ ধরণের নতুন আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। তবে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে বসেই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এইসব ক্ষেপণাস্ত্র। সেদিক থেকে বাংলাদেশের মিসাইল ভান্ডার কতটা সমৃদ্ধ? বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে চিন ও তুরস্ক সহ ১২টি দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করেছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর জন্য ১১ ধরণের, নৌবাহিনীর জন্য ৮ এবং বিমান বাহিনীর জন্য ৪ ধরণের যুদ্ধ সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।...
Read more












Discussion about this post