আমি বেইমান নই। আমি বিজেপিতে যোগদান করছিনা, নতুন দল গঠন করবোনা। এই সমস্ত বক্তব্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের। কিন্তু হঠাৎ কেন এত কৈফিয়ত দিচ্ছেন অভিষেক? কোন সংবাদ মাধ্যম গুজব রটাচ্ছে, কে কী বলছে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার কি খুব প্রয়োজন। কিন্তু না, দেখা গেল সমস্ত বিষয়ে কৈফিয়ত দিলেন অভিষেক। আর পুরো দায়ভার চাপিয়ে দিলেন সাংবাদিকদের ওপর।
সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্যগুলি দিয়েছেন যুবরাজ, এবং যে দায়ভার সাংবাদিকদের ওপর চাপালেন তার আসল কারণ কি। গত বছরের ২৮ অগাস্টের পর চলতি বছরের ২৭শে ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ কয়েক মাস পর একই মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাঝে তাদের সম্পর্কে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দলের বাইরে কোন অস্তিত্ব নেই এমন বেশ কিছু কথা শোনা যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে, কেন বার বার বলতে হচ্ছে যে, আমি বেইমান নই , নতুন দল করব না বা বিজেপিতে যোগদান করবো না।
উল্লেখ্য ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে দলের বিভিন্ন রীতি নীতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতানৈক্য হয়েছিল ভবিষ্যৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার সম্প্রতি দেখা গিয়েছে বেশ কিছু খবর রোটেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করবেন বা নতুন দল গঠন করবেন, আর এর প্রেক্ষিতেই কী কৈফিয়ত দিলেন অভিষেক শুনুন…
আমি বেইমান নই এই কথা কেন এত চিৎকার করে বলতে হচ্ছে দলের যুবরাজ কে। যদি কোন সাংবাদিক এই ধরনের খবর রটিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরাসরি মানহানি মামলা করতে পারেন কিন্তু তা না করে প্রকাশ্য সভা মন্ত্রী দাঁড়িয়ে প্রতিটি কথার কৈফিয়ত দিয়ে সমস্ত দায় সাংবাদিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার তো দরকার ছিলনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বাজার দর যাচাই করতে উদ্যত হয়েছিলেন, আর সেই দর যাচাই করতে তিনি বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করেছিলেন সেগুলিও প্রকাশ্যে এসেছিল সংবাদমাধ্যমে। আর বাজার দর যাচাইয়ের পর তাই তাকে আজ কৈফিয়তও দিতে হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামান্য বিরোধিতা তিনি করেছিলেন তার জেরেই কৈফিয়ৎ। নির্বাচনের আগে দলে বয়স্কদের স্থান না দিয়ে, তরুণদের স্থান দেওয়ার কথা বলে যে মতানৈক্য হয়েছিল তা কিছুটা মিটে গেল এই আসন্ন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিছু বিষয় মেনে নিলেন। যেমন আইপ্যাক যারা মমতা পন্থী ছিলেন সেই সকল কোন তৃণমূল নেতা পছন্দ করতেন না। কিন্তু আসন্ন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করবে।
মূলত ২০২৬-এর ভোটের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের সব নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এদিন বার্তা দেন মমতা। সেই বক্তৃতার মাঝেই আইপ্যাক-এর কথা শোনা গেল মমতার গলায়। তৃণমূল সুপ্রিমো বললেন, “পিকে অর্থাৎ প্রশান্ত কিশোর-র আইপ্যাক এটা নয়। ওরা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। এদের সহযোগিতা করতে হবে। কাজটা সবাইকে মিলে করতে হবে।”
উল্লেখ, আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই মমতার বৈঠকের খবর সামনে আসে। এরপরই জল্পনা তীব্র হয়। তবে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মমতা যে বার্তা দিলেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের সঙ্গেই থাকছে আইপ্যাক।












Discussion about this post