উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বন্যা দুর্গতদের দেখতে গিয়ে ভয়ঙ্কর হামলার মুখে পড়েন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে লাঠি, জুতো, ইট ছোড়া হয়। তাতে গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন সাংসদ খগেন মুর্মু। তৎক্ষণাৎ সাংসদ ও বিধায়ককে স্থানীয় স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার এ চিকিৎসকদের নজরাধিন রয়েছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। একই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। চিকিৎসকেরা জানান, সাংসদ খগেন মুর্মুর চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং মুখে বড়ো ধরণের চোট লেগেছে। সাংসদের চোখের নিচ থেকে নাকের নিচ পর্যন্ত বড়ো ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এখনো পর্যন্ত সাতটি সেলাই পড়েছে। প্রথমে পাঁচটি ও পরে অবস্থা দেখে আরও দুইটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার মুখে অস্ত্রপচার করে পাত বসানোর প্রস্তুতি চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য কমপক্ষে এখনো তাকে ১৫ দিন কথা বলতে বারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি করা হচ্ছে একাধিক রিপোর্ট।
অমানবিক এই ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। ঘটনার নিন্দা করেছে কংগ্রেস ও CPIM। আহত সাংসদ ও বিধায়কের সাথে দেখা করেন বিজেপির নেতৃত্বরা। ঘটনায় তৃণমূল ও রাজ্য পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগ্রান তারা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা দুর্গতদের সাথে দুধিয়ায় ত্রাণ শিবিরে দেখা করতে যান। সেখান থেকে তার যাওয়ার কথা ছিল মিরিকে। কিন্তু তিনি তার আগে সরাসরি হাসপাতালে যান আহত সাংসদকে দেখতে। শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, খগেনের সাথে কথা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল। আমি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। খগেন মুর্মুর ডায়াবেটিস রয়েছে এবং ডায়াবেটিসের মাত্রা বেশি। কানের নিচে কিছুটা আঘাত লেগেছে। এমন কিছু হয়নি খগেন দার। এবং ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
অন্যদিকে গুরুতর আহত সাংসদকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী সেই তার পুরোনো বুলি আওড়ালেন, এমন কিছু হয়নি খগেন দার। এটা ছোট্ট ঘটনা। এই দেখতে যাওয়ার বিষয়টিকে মুখমন্ত্রী রাজনৈতিক সৌজন্যতা বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এই নিন্দনীয় ঘটনায় অভিযুক্তদের চিন্নিত করা গেলেও ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও রাজ্য পুলিশ একজন অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। যা নিয়ে তপ্ত রাজনীতি মহল।
মুখ্যমন্ত্রীর অমানবিক মুখ আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে একজন সাংসদ যিনি গুরুতর আহত তাকে দেখেও মুখ্যমন্ত্রীর মনে হয়েছে এমন কিছু আহত হননি সাংসদ। এখন প্রশ্ন একটাই, আর কত অমানবিক হবেন একজন মুখ্যমন্ত্রী ?












Discussion about this post