আমেরিকার বার্তায় অ্যাকশন মোডে ভারত। উত্তরোত্তর অশান্তি বাড়ছে বাংলাদেশে। বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপও। নয়াদিল্লি, ব্রিটেন, আমেরিকা একযোগে সরব সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে। সব মিলিয়ে চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে প্রবল চাপে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। চাপের মুখে চিন্ময় মুক্তি নিয়ে সুর কিছুটা নরম করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউনুস প্রশাসন। এমনটাই ইঙ্গিত। কিন্তু সমস্যা হল জামাত, হেফাজতের মতো মৌলবাদী সংগঠনের কাছে ইউনুস সরকারের হাত-পা এমনভাবে বাঁধা, যে তাদের ইঙ্গিত ছাড়া ইচ্ছা থাকলেও চিন্ময়কে ছাড়তে পারছে না ইউনুস সরকার। এদিকে এই আবহেই ভারতের মাটি থেকে আমেরিকায় আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতা করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দুষেছেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বারবার দাবি করছেন, সেদেশের সংখ্যালঘু বিশেষত, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের যেসমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই নাকি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মিথ্যা প্রচার।তবে, ইউনুস যাই বলুন না কেন, তাতে যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মোটেও সন্তুষ্ট নয়, সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। কারণ, ফের একবার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নিয়ে আরও একবার বলা হল, ‘বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত খবর আসছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, যাঁদের বাংলাদেশের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মানবাধিকার এবং আইনি লড়াই লড়ার অধিকার বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল। এক সাংবাদিক তাঁর কাছে জানতে চান, বাংলাদেশে ধৃত সন্ন্যাসী তাঁর হয়ে মামলা লড়ার জন্য একজন আইনজীবী পর্যন্ত পাচ্ছেন না। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান কী?বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্পের বিবৃতির পেছনে কাজ করেছে ভারতের মোদি সরকার। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতি পরিবর্তন হবে এমনটা নয়। প্রসঙ্গত, এর আগেও আমেরিকার তরফে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ইস্কনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং আদালতে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা যে মার্কিন প্রশাসন মোটেও ভালোভাবে নেয়নি, তা স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঢাকাকে। তবে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিও প্রথম থেকেই ‘সন্তুষ্ট’ ছিল না আমেরিকা। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বারংবার বিবৃতিও দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। সেই আমেরিকাই পালা বদলের পর মহম্মদ ইউনুসকে স্বাগত জানিয়েছিল। তাঁর সরকারকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল আমেরিকা। অপরদিকে ইউনুসও বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইউনুসের সরকারের ১০০ দিনে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়েছে সেখানে। এই আবহে এবার বাংলাদেশ নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকা। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সরকারের দমনমূলক নীতিকে কোনও মতেই সমর্থম করে না তারা। এদিকে একই ভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভারত গভীরভাবে নজর রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির সরকারের। বাংলাদেশজুড়ে চলতি বছরের আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর সহিংসতার খবর দেখেছে ভারত সরকার।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post