ইতিমধ্যেই উত্তাল বাংলাদেশ। অস্বাভাবিক জনজীবন। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে মুক্তি যোদ্ধা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে একাংশ ছাত্রদের আন্দোলন নিন্দার ঝড় তুলেছে, সারা দেশ জুড়ে। এদিকে বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ অবস্থা নিয়ে চিন্তিত রাজ্য। সেই দিকে বিশেষ নজরও রাখছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয় নিয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা হয়েছে নবান্নর। রাজ্যের কেউ ওদেশে আটকে রয়েছেন কিনা, তা দেখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে নবান্ন।
পাশাপাশি দিল্লিতে রাজ্যের রেসিডেন্সিয়াল কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগে থাকার। ইতিমধ্যেই শুক্রবার অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ থেকে ৩০০-র বেশি ভারতীয় পড়ুয়া দেশে ফিরেছেন। ভারতের পাশাপাশি এদের মধ্যে নেপাল ও ভুটানের ছাত্রছাত্রীও ভারতে প্রবেশ করেছেন। ফিরে আসাদের মধ্যে সিংহভাগই ডাক্তারির ছাত্র এবং তাদের বেশিরভাগই উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মেঘালয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। ভারতে ফিরে দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়া আমির সাংবাদিকদের জানান, “গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। ইন্টারনেট কাজ করছে না, মোবাইল পরিষেবাও বন্ধ। চোখের সামনে একের পর এক মানুষকে মরতে দেখে আর ঝুঁকি নিতে পারিনি।
প্রাণ বাঁচাতে আমরা কলেজের কয়েকজন ছাত্র দেশে ফিরে এসেছি।” অন্যদিকে আর কোন ভারতীয় পড়ুয়া আটকে রয়েছে কিনা সেই দিকে কড়া নজরে দিচ্ছে নবান্ন। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন সূত্রে জানা খবর, সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫০০ জনের বেশি আহত। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইতিমধ্যে কার্ফু জারি করেছে হাসিনার সরকার। নামানো হয়েছে সেনাও। তবে পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ভারতীয়দের বাংলাদেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং তাদের বসবাসের প্রাঙ্গনের বাইরে তাদের চলাচল কমিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে।
এই উপদেশ দেওয়ার পাশাপাশি হাইকমিশন সেখানের হেল্পলাইন নম্বরর জারি করেছে। জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয়রা এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয় ছাত্রদের ভ্রমণ এড়াতে এবং তাদের বসবাসের প্রাঙ্গনের বাইরে তাদের চলাচল কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ কোনও জরুরি প্রয়োজন বা সহায়তার জন্য হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post