কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গোটা দেশ উত্তাল। চিকিৎসক সমাজ থেকে শুরু করে শিল্পী, সাহিত্যিক, বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের মানুষজন প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন এই নারকীয় কাণ্ডের। তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা নিয়ে গোটা দেশ স্তম্ভিত। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআর এবং ন্যাশনাল ক্রাইম ওয়াচ বা নিউ যৌথভাবে এক সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতেই উঠে এল ভয়ানক তথ্য। ভারতবর্ষের বর্তমান আইনপ্রণেতাদের একটা বড় অংশ মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, এরমধ্যে কয়েকজন এমন রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংগঠিত সমস্ত নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে এই দুই সংস্থা। তাতেই উঠে এসেছে বর্তমানে সাংসদ ও বিধায়ক মিলিয়ে ১৫১ জন এমন আইনপ্রণেতা রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আর এই বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী হলফনামাতেই উল্লেখ রয়েছে। এডিআর এবং নিউ ভারতের ৭৭৫ জন সাংসদের মধ্যে ৭৫৫ জন এবং ৪,৬৯৩ বিধায়কের মধ্যে ৪,০৩৩ জনের নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ভারতে এমন ১৬ জন সাংসদ এবং ১৩৫ জন বিধায়ক রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের প্রতি অপরাধের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগগুলির মধ্যে, মহিলাদের প্রতি যেমন শ্লীলতাহানী, লাঞ্ছনা, শারীরিক নিগ্রহ, অপহরণ, বলপ্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তেমনই ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলা এখন বিচারাধীন।
সবচেয়ে বড় তথ্য হল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ২৫ জন সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে নারীদের প্রতি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর পরেই রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার নাম। অন্ধ্রের ২১ জন জনপ্রতিনিধি এবং ওড়িশার ১৭ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ জন সাংসদ এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের মামলা রয়েছে। যার ন্যূনতম সাজা ১০ বছর আর সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এই ১৬ জনের মধ্যে ২ জন সাংসদ এবং ১৪ জন বিধায়ক রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সর্বাধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছে। বিজেপির ৫৪ জন সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এরপরেই আছে কংগ্রেস, ২৩টি এবং টেলেগু দেশম পার্টির ১৭টি মামলা চলছে। বিজেপি এবং কংগ্রেসের ৫ জন করে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে। এডিআর দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন করে আসছে যে তাঁরা যেন অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্তদের টিকিট না দেয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ঘটনার মামলায় জড়িত ১৫১ জন জনপ্রতিনিধি জিতে সাংসদ অথবা বিধায়ক হয়ে আইনসভার সদস্য হয়ে বসেছেন। যেখানে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের ঢল উঠেছে, সেখানে এই তথ্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল রাজনৈতিক দলগুলির সদিচ্ছা নিয়েই।












Discussion about this post