আসন্ন ২৬ শের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী তালিকা ঝালিয়ে নিচ্ছে। প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব, চেয়ারপার্সন, বিধায়কদের নিয়ে পর পর বৈঠক করেছেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক গুলিতে সাংগঠনিক জেলায় কোন ব্লকে কী রকম বদল প্রয়োজন সেই মতামত নেয়া হয়েছিল জেলা নেতৃত্বের থেকে। এই মতামত খতিয়ে দেখে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে অনুমোন নেন অভিষেক। এরপর তিনি কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার, জেলায় জেলায় ব্লক ও টাউন স্তরে এবং শাখা সংঘঠন গুলিতে রদবদল করেছেন। তৃণমূল সূত্রের খবর, উৎসবের মরসুমের পর কলকাতার দুটি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করে কলকাতার দুটি সাংগঠনিক জেলাতেও ওয়ার্ড সভাপতি এবং শাখা সংগঠনের নেতৃত্বে রদবদল করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জেলার ব্লক সভাপতি এবং কলকাতায় ওয়ার্ড সভাপতি সমতুল্য। ১৪৪ টি ওয়ার্ড রয়েছে কলকাতা পুরসভার অধীনে এবং বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে ১১ টি। এছাড়াও টালিগঞ্জ, কসবা, যাদবপুর এবং বেহালা পশ্চিম ও পূর্ব বিধানসভায় রয়েছে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড। তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিধায়ক – মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন করে গত মেয়ে মাসে ৯ সদস্যের একটি কোর কমিটি গঠন কড়া হয়েছিল। কোর কমিটিতে ৯ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন বিধায়ক ও ২ জন হেভিওয়েট কাউন্সিলর। এই পাঁচ মাসে মাত্র একটি বৈঠক হয়েছে কোর কমিটির। নিয়মিত বৈঠক যে হয়না উত্তর কলকাতার কোর কমিটির তা জানাই অভিষেকের। সূত্রের খবর, অভিষেকের পর্যবেক্ষণে কলকাতা পুর এলাকায় লোকসভা নির্বাচনে নানান জায়গায় বিজেপির লিড পাওয়ার নেপথ্যে স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ ও জন প্রতিনিধিরা দায়ী। এছারাও কলকাতায় তৃণমূলের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ, পারফর্মেন্সের ওপর ভিত্তি করে জেলার ব্লক, টাউন সভাপতি যেমন বদল হয়েছে সেই একই মাপকাঠিতে একইভাবে কলকাতার বহু ওয়ার্ডে সভাপতি বদলের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে।
২০২১ শের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ১১ টি আসনে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটে জিতে ছিল জোড়াফুল শিবির। টালিগঞ্জ, কসবা, যাদবপুর এবং বেহালার দুটি বিধানসভায় ৫০ শতাংশের কাছে প্রাপ্ত ভোট ছিল জোড়াফুল শিবিরের। কলকাতার পুর ভোটে ১৩৭ টি ওয়ার্ডে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু ২০২৪ শের লোকসভা ভোটে দেখা গেছিল ৪৭ টি ওয়ার্ডে লিড নিয়েছিল বিজেপি[। তার মধ্যে ৪৪ টিতে লিড ছিল বিজেপির। দক্ষিণের তুলনায় উত্তর কলকাতায় বিজেপির এগিয়ে থাকা ওয়ার্ডের সংখ্যা বেশি। দক্ষিণের রাসবিহারী ও উত্তরের মানিকতলায় দেখা গেছিল বিজেপি এবং তৃণমূলের ভোটের সামান্য ফারাক।












Discussion about this post