জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর নৃশংস হামলার পরই ত্রিপুরায় ভাঙচুর করা হয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল আগরতলায় ঢুকতেই তাদের বাধা দেওয়া হয়। গোটা ত্রিপুরাতে একমাত্র আগরতলাতেই তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস রয়েছে। সেই পার্টি অফিস ভাঙচুরের প্রতিবাদে ত্রিপুরা যায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবারই ত্রিপুরা পুলিশের ডিজির সাথে দেখা করে তাকে সব অভিযোগ প্রমাণ-নথি-সহ দিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ, মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, সাংসদ সুস্মিতা দেব ও সুদীপ রাহা। ঘটনায় এবার সেরাজ্যে র রাজ্যপালের স্পেশাল ডিউটি অফিসারের কাছে মেমোরেন্ডাম জমা দিল শাসকদল তৃণমূল। যদিও ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। কারণ ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি বৃহস্পতিবার দুপুরে আগরতলা থেকে দিল্লি চলে যান। এবিষয়ে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, রাজ্যপাল তাদের জানিয়েছিলেন দিল্লি থেকে ফিরে তিনি দেখা করতে পারেন। কিন্তু তৃণমূলের পক্ষে ওই দীর্ঘ সময় ত্রিপুরায় থাকা সম্ভব নয় তাই তারা তাদের অপারগতার কথা জানিয়ে রাজ্যপালের সচিব শ্রী চাকমার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশের কাছে তারা কতগুলি বিষয় উল্লেখ করেছে যেমন – ত্রিপুরায় তৃণমূলের কর্মীরা নির্ভয়ে যাতে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, যারা হামলা চালালো তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ হবে ? চার বছর আগে উদয়পুরের ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে হামলা হয়েছিল অভিষেক বন্ধোপাধ্যায়ের কনভয় ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের উপর যে হামলা হয়েছিল তার তদন্ত কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ? অভিযোগ, এই কোনো প্রশ্নের উত্তরই ত্রিপুরা পুলিশ দিতে পারেনি। ত্রিপুরা পুলিশ যদি ভাবে তারা চুপচাপ বসে থাকবে আর বিজেপির খাঁচার টিয়া হয়ে কাজ করবে তাহলে সেটা বড়ো ভুল। আইনের রক্ষকরা কখনো গেরুয়া দাঙ্গাবাজদের সহযোগী হতে পারে না।
এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ত্রিপুরা থেকে কলকাতায় ফিরে আসে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলটি। বিজেপির দাবি, উত্তরবঙ্গের ইস্যু থেকে মানুষের মোড় ঘোরাতেই এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তৃণমূল।












Discussion about this post