অবশেষে ঝোলা থেকে বেরিয়ে এল বিড়াল। আর তা বের করলেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন বিপুল অর্থ ঢেলেছে বলে জানালেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৭ই ফেব্রুয়ারি, ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ অ্যাকাউন্টে’-এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তারপরই ভয়ানক শোরগোল পড়ে যায় গোটা বাংলাদেশে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডেশন অব ফ্রিডম অনলাইনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বেঞ্জ একটি টক শো-তে কথা বলছেন। তিনি বোঝাচ্ছেন কিভাবে ন্যাশনাল এনডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি বা এনইডি, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট বা আইআরআই এবং ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করেছে।
স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন এহেন বিস্ফোরক ভিডিও শেয়ার করেন, তখন বোঝাই যাচ্ছে এবার তিনি কোনও ব্যবস্থা নিতে চলেছেন। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ফলে ইতিমধ্যেই কাঁপুনি ধরা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের অন্দরমহলে। যদিও ট্রাম্প যে অংশটুকু শেয়ার করেছেন সেটা আসলে হিমশৈলের চূড়া। বাকি অংশ আরও বিস্ফোরক। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়কালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে নাকি তাদের ইনস্টিটিউটকে ১৭০ জন গণতন্ত্রপন্থী সহযোগিতা করেছিল। ইউএসএআইডি-র মাধ্যমে এর জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছিল জো বাইডেন প্রশাসন। কীভাবে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট জনপ্রিয় বাংলাদেশি গায়ক তৌফিক আহমেদের- ‘তুই পারিস’ এবং ‘এ দায় কার?’ গান দুটি রিলিজ করতে ও প্রচার করতে সাহায্য করেছিল। কত বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল সেটাও উল্লেখ আছে। এই গান দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘সামাজিক অব্যবস্থা এবং হাসিনার সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বদলের ডাক দেওয়া হয়েছিল’। এটাও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে ফলাও করে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ২০২০ সাল বা তার আগে থেকেই বাংলাদেশের রূপান্তরকামী বিভিন্ন সংগঠনকে অর্থ সাহায্য করতে শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনায় একাধিক রূপান্তরকামীদের সভা অথবা নাচের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই হাসিনা বিরোধী জোরদার প্রচার করা হয়। এখানেই শেষ নয়, এরপর আছে বাঙলাদেশে বসবাসকারী বিহারি সম্প্রদায়। সেই দেশ ভাগের সময় বিহারের বেশ কয়েক হাজার মুসলিম পরিবার পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান। যারা এখনও বাংলাদেশে বিহারি বলেই পরিচিত এবং এই সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ মিলমিশ রয়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে এরা ঢাকা ও আশেপাশের অঞ্চলে বেশ প্রভাবশালী। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে তাঁদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের বিহারি সম্প্রদায়ের মধ্যে হাসিনা বিরোধী প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রর স্টেট ডিপার্টমেন্ট। প্রসঙ্গত, শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি বা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার পর একদল মানুষের যে ধরণের উল্লাস ও নাচ লক্ষ্য করা গিয়েছিল তা এই বিহারি সম্প্রদায়ের মানুষদের বলেই জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিদায়ের নেপথ্যে আমেরিকার হাত থাকা নিয়ে চর্চা, তর্ক চলেছে বহুদিন। একটা সময় এই নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন শেখ হাসিনা নিজেও।এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ করলেন সেই বিস্ফোরক তথ্য। শুধুমাত্র বুদ্ধিজীবী, ট্রান্সজেন্ডার বা বিহারী সম্প্পদায় নয়, বিএনপি ও জামাতের মতো রাজনৈতিক দলগুলিও ইউএসএআইড থেকে টাকা পেয়েছিল। এর জন্য বছরে প্রায় ৪১ মি্লিয়ন ডলার ব্যায় করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপের জন্যও টাকা দিয়েছিল ইউএসএইড। ওই প্রতিবেদনে দাবি কর হয়েছে, গণতন্ত্রের পাঠ দেওয়ার নামে বিভিন্ন ভাবে সরকার এবং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা করেছিল ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট।












Discussion about this post