চার বছর আগে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর, ওই রক্তাক্ত ঘটনার স্মৃতি এখনও মুছতে পারেনি। গালওয়ান উপত্যকায় যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে, তাতে ভারতীয় সেনার ২০ জন জওয়ান শহীদ হন, এবং চিনের পক্ষেও বেশ কিছু সেনা নিহত হয়। এই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক গভীর সংকটে পড়েছিল, এবং অঞ্চলটি নিয়ে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তবে, প্রায় চার বছর পর, গত মাসে ভারত ও চিন এলএসি সংক্রান্ত টহলদারির সীমানা নির্ধারণ এবং সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এখন, এই প্রেক্ষাপটে, গত মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল চিনের রাজধানী বেজিং পৌঁছন, যেখানে তিনি চীনের বিদেশমন্ত্রী ও বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত কমিশনের প্রধান ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি ভারতের নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল, যেখানে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার পাশাপাশি সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকে হান ঝেং বলেন, চিন ও ভারত ফের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে পারে। ২০২৫ সালে চিন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা উচিত। উচ্চপর্যায়ের বিনিময় বজায় রাখা, রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।” এদিকে অজিত ডোভাল বৈঠকে বলেন, পাঁচ বছর পর বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ব্যপকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভারত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চিনের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক সুবিধাজনক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতের প্রতিনিধি ডোভাল আরও বলেন, এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হল সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সীমানা সংক্রান্ত সমস্যার ন্যায্য সমাধান খুঁজে বের করা। অর্থাৎ এই বৈঠকের মাধ্যমে দু দেশের সম্পর্ক মজবুত হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। এই আবহেই পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াতে মরিয়া পাকিস্তানও। মিশরের রাজধানী কায়রোতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। বৃহস্পতিবার ডি-৮ সম্মেলনের সাইডলাইনে তাঁরা দুজনের মধ্যে আলোচনা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে একেবারে হাতে হাত ইউনুস ও শাহবাজের। হাতে হাত দুজনের। শাহবাজ লিখেছেন, ‘অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক কথা হয়েছে আমার বন্ধু প্রফেসর ডঃ মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে। বাংলাদেশের মুখ্য় উপদেষ্টা। ১১তম ডি-৮ সামিটের সাইডলাইনে কায়রোতে সকালবেলা এই আলোচনা হয়েছে।’ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনূস বৈদেশিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য হিসাবে সার্কের পুনরুজ্জীবনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ২০২৬ সালের মাঝখানে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও শেহবাজ শরিফকে জানান প্রধান উপদেষ্টা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সত্যিই আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার অপেক্ষায় রয়েছি।”
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post