একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মুকুল রায়। বাংলার রাজনৈতিক মহলের অভিমত, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তিনিই ছিলেন প্রধান কারিগর। বামফ্রন্টের জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন ক্ষমতা নিয়ে আসার পেছনে এই মুকুল রায়ের ব্যাপক ভূমিকা ছিল বলেও মনে করেন অনেকে। তাকে বঙ্গ রাজনীতি চালক্য বললেও কম বলা হয় না। আজ তাকেই বিশ্বাসঘাতক বলছেন তৃণমূলের বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মুকুল রায়ের। বলা ভালো দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ফলে তিনি ঘাসফুল শিবির ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন পদ্মফুল শিবিরে। অর্থাৎ যোগদান করেন বিজেপিতে। তবুও বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায় স্বমহিমায় দেখা গিয়েছিলো মুকুল রায়কে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসন এক ধাক্কায় বেড়েছিল অনেকটাই। এরপর ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনেও আশাতীত ফল করেছিল বঙ্গ বিজেপি।
তাল কাটে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপি কৃষ্ণনগর থেকে প্রার্থী করে মুকুল রায়কে। তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলেও বিজেপি খুব একটা সফল হয়নি সেই নির্বাচনে। দূরত্ব বাড়ে পদ্ম শিবিরের সঙ্গে। এরপরেই আবারও ছন্দপতন, বিজেপি ছেড়ে অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরে আবারো তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেন মুকুল রায়। কিন্তু খাতায় কলমে রয়ে যান বিজেপি বিধায়ক হিসেবে।
মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেও দলে সেভাবে গুরুত্ব পাননি। বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন মুকুল রায়। দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসা চলছে তার।
এমতাবস্থায় তৃণমূলের বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড, তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য দলীয় মঞ্চ থেকে মুকুল রায়কে গাদ্দার বলে অভিহিত করলেন। তিনি বলেন আমি দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুকুল রায়ের মতন গাদ্দারদের দল থেকে বের করে দিয়েছি। নাস্তানাবুদ করে দিয়েছি তাদের রাজনৈতিক জীবন।
অথচ সেই মঞ্চের নিচে তখন উপস্থিত মুকুল পুত্র শুভ্রাশু রায়। যা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও মুকুল রায় সম্পর্কে অভিষেক ব্যানার্জীর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু বলেন বাবা এখন খুবই অসুস্থ তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করছি। অভিষেক ব্যানার্জীর মন্তব্য প্রসঙ্গে শুভ্রাংশ বলেন এই ধরনের কথা এর আগেও বাবাকে উদ্দেশ্য করে বহুবার বলতে শুনেছি।
একদা মুকুল রায়ের সঙ্গী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং কড়া ভাষায় নিন্দা করলেন অভিষেক ব্যানার্জির এই মন্তব্যের। তিনি বলেন আমার বাবার প্রসঙ্গে যদি কেউ খারাপ কথা বলত তাহলে আমি তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।
একদা তৃণমূলের দ্বিতীয় কমান্ড মুকুল রায়কে গদ্দার বলে আখ্যায়িত করা ভালোভাবে দেখছেন না রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ নিয়েও। একজন অসুস্থ শয্যাশায়ী বর্ষিয়ান নেতার সম্পর্কে এহেন মন্তব্য সুস্থ রাজনীতির পরিচয়ক নয়। তবে কি অভিষেক আবারও দলীয় মঞ্চ থেকে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব খুঁচিয়ে দিলেন?












Discussion about this post